ফের স্থলমাইন বিস্ফোরণে যুবকের পা বিচ্ছিন্ন, আতঙ্কে সীমান্তবাসী

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত লাগোয়া উখিয়া উপজেলার সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন এলাকায় আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন এক রোহিঙ্গা যুবক। বিস্ফোরণে তার ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। বর্তমানে তিনি উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। আহত মোহাম্মদ সালমান (২৭) উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি/৯ ব্লকের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে সালমান সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে যান। বালুখালী বিওপি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বে এবং শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২৫০ গজ ভেতরে পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে সঙ্গে থাকা অন্য রোহিঙ্গারা তাকে উদ্ধার করে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান।

১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, বিস্ফোরণের পর সালমান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার ডান পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে আমরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠাই।

NewsDetails_03

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাইন আতঙ্ক রয়েছে। অনেক রোহিঙ্গা নানা কারণে সীমান্ত অতিক্রম করেন। বিশেষ করে মাদক আনার অভিযোগও রয়েছে। তবে আহত সালমান কী কারণে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এতে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষও ঝুঁকিতে পড়ছেন।

এর আগে রবিবার (২৪ মে) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি দিনমজুর নিহত হন। তুমব্রু জিরো পয়েন্টের ৪২ নম্বর পিলারের কাছে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একদিনের ব্যবধানে আবারও সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো সীমান্তজুড়ে।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের জেরে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য স্থলমাইন। এসব মাইন এখন সীমান্তবাসীর জন্য নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন