বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সীমান্ত পিলার ৪১ ও ৪২-এর মধ্যবর্তী এলাকায়, সীমান্তে ঘটনা ঘটে।
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রামুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের পর এলাকায় তিনজন আহত হওয়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুনইয়ং চাকমার ছেলে লেঠাইয়া চাকমা (৪১), নিওমং চাকমার ছেলে অং ক্য মং (৫০) ও অইমং চাকমার ছেলে চিং ক্য অং (৪০)।
কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, নিহত তিনজন পাহাড়ে খেতে কাজ করছিলেন। এ সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে চাকমা সম্প্রদায়ের এই তিনজন নিহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য-সংলগ্ন সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইনে প্রায় সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে আরাকান আর্মি রাখাইনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্তে আরকান আর্মির পুঁতে রাখা শক্তিশালী স্থলমাইনের বিস্ফোরণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহতরা ওই এলাকায় কলাবাগানে কাজ করতে গেলে এ দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে অপর একটি সূত্র দাবি করেছে, তাঁরা চোরাই পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ওই দিন মাদকদ্রব্য আনতে গিয়ে সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমার অংশের চোরাই পথ দিয়ে আসার সময় মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়েন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হক জানান, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে, ঘটনাস্থলে বিজিবি সদস্য, গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) ও স্থানীয় লোকজন রয়েছেন।



