বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর কর্ম, চিন্তা ও আচরণের মাধ্যমে একজন সার্বজনীন নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বাংলাদেশের ক্রান্তিকালে গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল অনন্য। তিনি বলেন, তাঁর গার্ডিয়ানশীপ আমাদের আরও প্রয়োজন ছিল।
বুধবার ( ০৭ জানুয়ারী) রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) এ শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির।
প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান তাঁর ছাত্রজীবনে বেগম খালেদা জিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখার স্মৃতিচারণ করে বলেন, রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনোই কোনো অশালীন শব্দ উচ্চারণ করেননি—এই বিনয় ও শালীনতা আমাদের জন্য অনুকরণীয়। দেশপ্রেম, নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষা চালু ও উপবৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশনেত্রী হিসেবে সার্বজনীন হয়ে উঠেছিলেন।
ভাইস-চ্যান্সেলর আরও বলেন, দেশ-বিদেশে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার জন্য তিনি একজন আইকনিক লেডি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর মাঝে দেশপ্রেম ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান সবসময় স্পষ্ট ছিল। তিনি বলেন, “By default she was honest.” আমরাও দেশের জন্য সৎ ও আপোষহীন হতে চাই।

তিনি উল্লেখ করেন, আজকের শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অর্থবহ হবে তখনই, যখন আমরা তাঁর দর্শন লালন করবো। নতুন বাংলাদেশের জন্য আমাদের সবাইকে সততার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলে তা অনুসরণ করতে হবে। একইসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা ও ক্রিটিক্যাল থিংকিং তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পরবর্তী প্রজন্মকে তাঁর কর্মময় রাজনৈতিক জীবন ও জাতির জন্য অবদান সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচির কথা স্মরণ করে বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হয়েছিল। ভবিষ্যতে নির্বাচনের মাধ্যমে যাঁরাই ক্ষমতায় আসুন না কেন, বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে—সে লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, রাবিপ্রবির প্রক্টর ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদ্দাম হোসেন, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা।
এছাড়া ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ জামশেদ আলম পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ তৌহিদুল ইসলাম ও মোঃ তাসফিক সিকদার।



