বান্দরবানে নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তুৃতিকরণে সংবাদ সম্মেলন
বান্দরবানে বিভাগীয় সম্মেলনের পরিবর্তে নারী আঞ্চলিক সম্মেলন গত ২৯ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য ৩টি জেলার সাথে সংলগ্ন কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে দুর্বার সংগঠনের প্রতিনিধি, তৃণমূল নারী সংগঠন, হেডম্যান, কারবারী, জনপ্রতিনিধি ও তরুণীসহ ৭০জন অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তৃতিকরনে এই আঞ্চলিক সম্মেলন শেষ হয় ৩১ অক্টোবর বিকেলে।
আজ ৩১ অক্টোবর (শনিবার) সমাপনী দিনে বিকেলে বান্দরবানের ইলিডে ইন রিসোর্টের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এক সংবাদ সন্মেলন। এসময় সংবাদ সম্মেলনে নারীপক্ষের সদস্য কামরুন নাহার, সদস্য ও আন্দোলন সম্পাদক গীতা দাশ এবং নারীনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ডনাই প্রু নেলী উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের এই নারী আঞ্চলিক সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এসময় আয়োজকেরা তিনদিনের এই নারী আঞ্চলিক সম্মেলন নিয়ে সাংবাদিকদের বিশদ ধারণা দেন এবং নারীপক্ষ বাংলাদেশে নারী-অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারীর সামাজিক অবস্থান পরিবর্তনে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সমে¥লনে নারীপক্ষের সদস্য কামরুন নাহার বলেন, নারীপক্ষ ১৯৮৩ সাল থেকে নারীর অবস্থা ও অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্যে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা ও নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষ্যমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতি সোমবার সদস্যরা সভায় মিলিত হয়, এই সভা নারীর নিজের কথা বলার একটি জায়গা এবং নারীপক্ষের সকল তৎপরতা ও আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল।
তিনি আরো বলেন,নারী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী স্বতন্ত্র মঞ্চ তৈরির জন্য দেশব্যাপী গড়ে তোলা হয়েছে নারী সংগঠনসমূহের নেটওয়ার্ক দুর্বার। নারীপক্ষ পরিচালিত হয় সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রম ও সময় দিয়ে। বেশির ভাগ সাংগঠনিক কর্মকান্ডের ব্যয় নির্বাহ হয় এই স্বেচ্ছাশ্রমের বিনিময়ে উপার্জিত আয়ের মাধ্যমে। তবে নারীপক্ষের আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে অর্থ সাহায্য নিয়ে কিছু পরীক্ষামূলক প্রকল্প নেয়া হয়।
বাংলাদেশের নারী পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে অধিকার সম্পন্ন নাগরিক ও মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গণ্য হবে স্বপ্ন রয়েছে জানিয়ে সংবাদ সন্মেলনে নারীপক্ষের সদস্য কামরুন নাহার আরো বলেন, আমাদের আকাঙ্কা নারীপক্ষ বাংলাদেশে নারী-অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারীর সামাজিক অবস্থান পরিবর্তনে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে নারীনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ডনাই প্রু নেলী সমাপনী বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, নারীর অধিকার বাস্তবায়ন আর পাহাড়ের নারীদের এগিয়ে নিতে এই আঞ্চলিক সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে এই সম্মেলনে নারীদের উপস্থিতি এবং নিজস্ব বিভিন্ন মতামত পার্বত্য এলাকার নারীদের জীবনমান উন্নয়নে অনেকটাই সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। এসময় সংবাদ সম্মেলনে নারীনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ডনাই প্রু নেলী সাংবাদিকদের নারীপক্ষের নারী মুক্তির আন্দোলন বিস্তুৃতিকরণে পাশে থাকার আহবান জানান এবং প্রতিটি নারীর সহিংসতামুক্ত জীবন গঠনে সমাজের সবাইকে আরো সচেতন হওয়ায় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



