বৈসাবীর অপেক্ষায় তরমুজ চাষিরা

রাঙামাটি

রাঙামাটির পাহাড়ে এখন বৈসাবী উৎসবের আমেজ। এই উৎসবকে ঘিরে তরমুজ চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে দেখা দিয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। কৃষক সাধন বিকাশ চাকমার তরমুজ ক্ষেত এ বছর ভালো ফলন দিয়েছে। বড় থেকে ছোট—সব ধরনের তরমুজ তুলেছেন তিনি, বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায়।

শুধু সাধন বিকাশ চাকমা নন, জেলার বিভিন্ন এলাকার তরমুজ চাষিরাও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাঙামাটি শহরের ফুটপাত, হাট-বাজার এমনকি অলিগলিতেও দেখা মিলছে সারি সারি তরমুজের। বিক্রেতারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকছেন।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় তরমুজের আবাদ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে এবং অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হারুনুর রশিদ জানান, পাহাড়ি জমিতে তরমুজ চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

NewsDetails_03

বর্তমানে তরমুজের দাম কিছুটা কম থাকলেও সামনে বৈসাবী তথা পাহাড়ের বর্ষবরণ উৎসবকে ঘিরে চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর এই উৎসবে তরমুজের ব্যাপক চাহিদা থাকে, যা তাদের বিক্রিতে নতুন গতি এনে দেয়।

কৃষক সাধন বিকাশ চাকমা জানান, এখন দাম একটু কম, তবে বৈসাবীর সময় ভালো দাম পাবো—এই আশাতেই বসে আছি।

এদিকে বাজারে ছোট আকারের তরমুজ তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে। কম দামের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি এ ধরনের তরমুজে। তথ্যমতে, ছোট তরমুজ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, মাঝারি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বড় তরমুজ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সামনের বর্ষবরণ উৎসবকে ঘিরে এই দাম আরও বাড়তে পারে।

বৈসাবীকে ঘিরে রাঙামাটির তরমুজ চাষি ও ব্যবসায়ীদের চোখে এখন স্বপ্নের আলো। সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল নিয়ে তারা অপেক্ষায়—উৎসবের এই আনন্দঘন সময়েই যেন মিলবে ন্যায্য দাম ও কাঙ্ক্ষিত লাভ।

আরও পড়ুন