রাঙামাটিতে বাবাকে হত্যা করে রক্ত পান !
৮ বছর পর ছেলে-ভাতিজার ফাঁসি
বাবাকে গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া, মামলার বিবরণে আরও উঠে এসেছে, হত্যার পর নিহতের রক্ত পান করেছিল আসামিরা। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট বছর পর আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড হলো নিহতের ছেলে ও ভাতিজার।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আহসান তারেক চাঞ্চল্যকর শান্তি লাল চাকমা হত্যা মামলার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নিহতের ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমা। তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে রাঙামাটির সাজেক থানার ভাইবোনছড়া এলাকায় রাতের খাবার শেষে শান্তি লাল চাকমাকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার পর আসামিরা নিহতের রক্ত পান করে এবং মরদেহ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার আট দিন পর বাঘাইছড়ির কাচালং নদী থেকে শান্তি লাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় সোহেল চাকমা ও আলোময় চাকমাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সোহেল চাকমা। পরে তাকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি আলোময় চাকমা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত এ হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংস উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের পশুবৃত্তিসুলভ হত্যাকাণ্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকি।
তবে আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আসামিপক্ষ। তাদের দাবি, নিহত শান্তি লাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাশেদ ইকবাল বলেন, মামলার শেষ পর্যায়ে তিনি আসামিপক্ষে যুক্ত হয়েছেন। তার দাবি, মূল আসামি ভাতিজা আলোময় চাকমা আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর পলাতক রয়েছেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে সোহেল চাকমাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট রাশেদ ইকবাল বলেন, শান্তি লাল চাকমা হত্যাকাণ্ডে সোহেল চাকমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।


