রাজস্থলীর তরুণ উদ্যোক্তা আছোমং মারমা পেলেন রাষ্ট্রপতি সম্মাননা
পাহাড়ের দুর্গম জনপদে গবাদিপশুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা আছোমং মারমা। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে গড়ে তোলা সমন্বিত কৃষি ও পশুপালন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা। পুরস্কার হিসেবে তাঁকে সম্মাননা স্মারকের পাশাপাশি এক লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।
আছোমং মারমা রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের কুদুমছড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মংহলাউ মারমা। বেকারত্ব দূর করে নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে তিনি গবাদিপশুর খামার গড়ে তোলেন।
শুরুতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও হাল ছাড়েননি আছোমং। রাজস্থলী উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ঋণ নিয়ে তিনি খামার গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। পরে কাপ্তাইয়ের কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকেও ঋণ নেন। এসব অর্থ কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে নিজের উদ্যোগকে সম্প্রসারিত করেন তিনি।
বর্তমানে তাঁর খামারে উন্নত জাতের গরু পালন ও শূকর উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। পরিকল্পিতভাবে পশুপালনের মাধ্যমে তিনি নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।

পাহাড়ি এলাকায় কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের মধ্যে আছোমং মারমার এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকাতেও কৃষি ও পশুপালনকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।
সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আছোমং মারমা বলেন, ‘এই সম্মাননা শুধু আমার একার নয়, এটি পুরো রাজস্থলী ও পার্বত্যবাসীর সম্মান। সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায় থাকলে পাহাড়ের মাটিতেও সোনা ফলানো সম্ভব। আমার এই স্বীকৃতি পার্বত্য অঞ্চলের অন্য বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
আছোমং মারমার এই অর্জনে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নসহ রাজস্থলী উপজেলার মানুষের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, তাঁর সাফল্য পাহাড়ি এলাকায় কৃষি ও পশুপালনভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে আছোমং মারমার মতো আরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে পাহাড়ি অঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।



