সুবলং চ্যানেল সাঁতারে বগুড়ার চার সাঁতারুর বাজিমাত
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের সুবলং চ্যানেলে ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাজিমাত করেছেন বগুড়া জেলার চার সাঁতারু। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অংশ নেওয়া ২৭ প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম, দুটি তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানসহ চারটি অবস্থানই নিজেদের করে নিয়েছেন তাঁরা। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বগুড়ার হয়ে অংশ নেন রাব্বি, মেহেদী, নয়ন ও আব্দুল্লাহসহ আরো অনেকে।
প্রতিযোগিতায় রাব্বি রহমান প্রথম স্থান অধিকার করেন। মেহেদী হাসান ২য়, নয়ন ইসলাম তৃতীয় এবং আব্দুল্লাহ আল মাহি চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। চার সাঁতারুর এমন সম্মিলিত সাফল্যে প্রতিযোগিতায় বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে বগুড়া জেলা। ৫ম স্থান অধিকার করেন রাঙামাটির সন্তান মোঃ হাফিজুর রহমান।
সকাল ৮টায় বরকল উপজেলার সুবলং বাজারসংলগ্ন ঘাট থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পাহাড়ঘেরা কাপ্তাই হ্রদের ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিয়ে দুপুর ১২টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বোটঘাটে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে।
প্রতিযোগিতা শেষে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে রাঙামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইকরামুল রাহাত, পিএসসি; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঁইয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌং, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমানসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, সাঁতার নিয়ে মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ভীতি দূর করা এবং সাঁতারকে জনপ্রিয় করে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি পর্যটন শহর রাঙামাটির অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সুবলং চ্যানেলকে দেশব্যাপী পরিচিত করা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান সাঁতারুদের খুঁজে বের করে তাঁদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাও এ প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে সাঁতারে নতুন প্রতিভা তৈরি হবে এবং রাঙামাটি ক্রীড়া ও পর্যটনের নতুন পরিচিতি পাবে।
পাহাড়ের নীল জলরাশি আর প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মাঝে ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ সাঁতার ছিল প্রতিযোগীদের শারীরিক সক্ষমতা, ধৈর্য ও মনোবলের কঠিন পরীক্ষা। দেশের বিভিন্ন জেলার সাঁতারুদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন যেমন নতুন প্রতিভার সন্ধান দিয়েছে, তেমনি রাঙামাটির ক্রীড়া ও পর্যটন সম্ভাবনাকেও তুলে ধরেছে নতুন মাত্রায়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ, মেডেল ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।



