বাঙ্গালহালিয়ায় ধানখেতে ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপূজা, ফসলের সমৃদ্ধি কামনা
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়ায় পারিবারিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে ধানখেতে ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে এ পূজা ‘অবংমা ছোঁয়া’ নামে পরিচিত।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) মংথুইপ্রু মারমার পরিবারের ধানজমিতে এ পূজার আয়োজন করা হয়। এতে ধানখেতের ভালো ফলন, ফসলের সমৃদ্ধি এবং পরিবারের সুখ-শান্তি কামনা করা হয়।
প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পূজা সম্পন্ন হয়। পূজার পাশাপাশি বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান ও দান প্রদান করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এসব দান ও পুণ্যকর্মের মাধ্যমে পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন আয়োজকেরা।
মংথুইপ্রু মারমা শাস্ত্রীয় জ্যোতিষবিদ হিসেবে পরিচিত। তাঁর পরিবারের উদ্যোগে প্রতিবছর এ পূজার আয়োজন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ ধর্মীয় আচার এখন তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।

মংথুইপ্রু মারমা বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও আমাদের পরিবারের ধানজমিতে লক্ষ্মীপূজা বা অবংমা ছোঁয়ার আয়োজন করেছি। এ পূজা আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। আমরা ধানখেতের ভালো ফলন, ফসলের সমৃদ্ধি এবং পরিবারের সুখ-শান্তি কামনা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পূজার পাশাপাশি বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে দান ও পুণ্যকর্মের মাধ্যমে নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করি। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া এ ঐতিহ্য যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও টিকে থাকে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
বাঙ্গালহালিয়া চাইল্ড কেয়ার মর্নিং স্কুলের পরিচালক সানুমং মারমা বলেন, হেডম্যান পাড়ায় মংথুইপ্রু মারমার পরিবারের উদ্যোগে প্রতিবছর ধানখেতে লক্ষ্মীপূজা বা অবংমা ছোঁয়া এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিণ্ডদান অনুষ্ঠিত হয়। এ আয়োজন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারিবারিক ঐতিহ্য চর্চার একটি দৃষ্টান্ত। প্রতিবছরের মতো এবারও ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে তাঁরা নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।
পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে কৃষি, প্রকৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ধানচাষ পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবিকা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধানখেতে ভালো ফলন, ফসলের সুরক্ষা এবং পরিবারের মঙ্গল কামনায় পালিত এ ধরনের আচার-অনুষ্ঠান স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখছে।



