রুমায় জোত পারমিটের আড়ালে বন উজাড়

বন কর্তাদের যোগসাজস

বান্দরবানের রুমা উপজেলার গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের পান্তলা মৌজায় জোত পারমিটের আড়ালে বন কর্তাদের যোগসাজসে দীর্ঘদিন ধরে বন উজাড় ও কাঠ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। সাঙ্গু নদীর দুই তীরে হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ স্তূপ করে নৌপথে পাচারের করছে চোরাকারবারিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত জোত পারমিটের সুযোগ নিয়ে চোরাকারবারি কাঠ ব্যবসায়ী চক্র নির্বিচারে পাহাড়ের গাছ কেটে বন উজাড় করছে। ফলে শুকিয়ে গেছে ঝিরি–ঝর্ণার পানির উৎস, ন্যাড়া হয়ে পড়ছে পাহাড়ও।

আরো জানা গেছে, সাঙ্গু নদীর উজানে পান্তলা পাড়ার ঘাট পেরিয়ে সেপ্রু মুখ এলাকায় নদীর ধারে গাছের বিশাল চালি প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখানে কাজ করছেন সাতকানিয়া–খাগরিয়া এলাকার নুরুল আলম (৬৫), মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (৪২) ও মোহাম্মদ নাছির (৫৬) সহ আরও আটজন শ্রমিক।

শ্রমিকরা জানান, তারা মো. জাহেদ মাঝির অধীনে প্রায় দেড় মাস ধরে প্রতিজন ১৫–১৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ করছেন।

এই বিষয়ে কাঠ পাচারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক দেলোয়ার বলেন, আমরা জাহেদ মাঝির লোক, তিনি আমাদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করেন।

কাঠ পাচারের মাঝি জাহেদ জানান, বান্দরবানের ব্যবসায়ী কাউছার সওদাগরের কাঠ নদীতে নামানোর জন্য প্রস্তুত করছেন। শ্রমিক নিয়োগ, থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থাসহ পুরো কাজ তিনি কাউছারের সঙ্গে কথা বলেই করছেন।

NewsDetails_03

গালেঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাছ ব্যবসায়ীরা জোত পারমিট করে নির্ধারিত একটি স্থানের বন্দোবস্তির জমির কাগজ দিয়ে। কিন্তু গাছ কেটে নিয়ে যায় অন্য আরেকটি জায়গা থেকে। এটা কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

নুমলাই হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা লংরুম ম্রো বলেন, পান্তলা মৌজায় তার নামে কোনো জমির বন্দোবস্ত নেই, কামাল তাদের কিছু গাছ কিনে নিয়ে গেছে। কাউছার নামের ওই ব্যবসায়ীর পক্ষে কাঠ কেনা–কাটা ও পরিবহনের দায়িত্বে রয়েছে কামাল।

সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নদীর পাড় জুঁড়ে গাছের বিশাল স্তূপ। উভয় তীরে সারিবদ্ধভাবে রাখা কাঠের চালিগুলো যেকোনো সময় নৌপথে পাচার করতে গাছের টুকরোগুলো বাঁশের সঙ্গে বেঁধে চালি করে রাখা হয়।

এই বিষয়ে রুমা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ রহমান বলেন,গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের কয়েকটি অনুমোদিত জোত পারমিট চলমান রয়েছে। তবে এগুলো অনুমোদিত হয়েছে আগের রেঞ্জারের আমলে। কোন মৌজায় কার নামে অনুমোদন হয়েছে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। সাবেক রেঞ্জার এ তথ্য জানেন।

সাবেক রেঞ্জার মো. মুনতাসীর বলেন,পান্তলা পাড়া থেকে তিনজন ব্যক্তির নামে অনুমোদিত জোত পারমিট ছিল। কাউছার ঠিক কার নামে জোত করেছে, কাগজপত্র না দেখে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

বনভূমি ধ্বংসের শঙ্কা:
স্থানীয়দের অভিযোগ, জোত পারমিটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই চক্রটি গাছ কাটার অনুমোদিত পরিধির বাইরে গিয়ে বিশাল এলাকায় গাছ কাটছে। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া পুরোনো গাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে, ফলে উজাড় হচ্ছে পাহাড়, হ্রাস পাচ্ছে পানি প্রবাহ। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছে, পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় জোত পারমিট পুনঃমূল্যায়ন, কাঠ পাচার দমনে কঠোর পদক্ষেপের নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন