স্বল্পমূল্যে হৃদরোগের চিকিৎসা দেবে রাঙামাটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল

ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি এবার স্বল্পমূল্যে হৃদরোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাঙামাটি ডায়াবেটিক সমিতি পরিচালিত রাঙামাটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল।

শুধুমাত্র প্রতি শুক্রবার রাঙামা‌টি কে‌ন্দ্রিয় কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় অব‌স্থিত হাসপাতালটিতে সকাল ১০টা থেকে হৃদরোগীদের জন্য এ বিশেষ চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে।

এ উপলক্ষে শুক্রবার সকা‌লে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. পরশ খীসা, সা‌বেক জেলা প‌রিষদ সদস্য ম‌নিরুজ্জামান মহসীন রানা, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. শুভ্রসোম চাকমাসহ সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্যরা।

সভায় জানানো হয়, রাঙামাটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগীদের পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। এছাড়া চট্টগ্রাম লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় নিয়মিতভাবে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে এবার স্বল্পমূল্যে হৃদরোগের চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাঙামাটিতে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে জেলা শহরের বাইরে যেতে হয়। এতে রোগীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। ডায়াবেটিক হাসপাতালে নিয়মিত হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা চালু হলে জেলার সাধারণ ও নিম্নআয়ের রোগীরা তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

রাঙামাটি ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. পরশ খীসা বলেন, মানুষের সেবার উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে বাইরে থেকে নিয়মিত কোনো আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় নিজেদের অর্থেই হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটের মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসক ও কর্মীদের বেতনসহ হাসপাতালের অন্যান্য ব্যয় বহন করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। তারপরও রোগীদের স্বার্থে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। হাসপাতালের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাঙামাটিতে স্বল্পমূল্যে হৃদরোগের বিশেষ চিকিৎসাসেবা চালু হওয়ায় স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমার পাশাপাশি নিজ জেলাতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন