আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত দিতে মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ

বান্দরবানে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানি
বান্দরবান সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে মৃত ঠিকাদারের কাজের আত্মসাৎ করা টাকা বুধবারের (আজ) মধ্যে ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বান্দরবানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম এ নির্দেশ দিয়েছেন। সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গণশুনানিতে এই নির্দেশ দেন।

জেলা শহরের মধ্যমপাড়ার লিপিপ্রু মারমা অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী মৎস্য বিভাগে ঠিকাদারি করতেন। প্রায় নয় লাখ টাকার দুটি বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে তিনি মারা যান। তখন কাজের বিল দেওয়ার আশ্বাসে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন স্বামীর ঠিকাদারির কাগজপত্র নিয়েছেন। সরল বিশ্বাসে তিনি কোনো ফটোকপি রাখেননি। ওই কাগজপত্র গায়েব করে অন্য একটি ঠিকাদারি লাইসেন্সে কাজ দেখিয়ে জিয়া উদ্দিন বকেয়া বিলের প্রায় চার লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। দুদক কমিশনার আমিনুল ইসলাম আত্মসাৎ করা সমস্ত টাকা বুধবারের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

শুনানিতে জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, সিভিল সার্জন অংসুইপ্রু মারমাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা উপস্থিত লোকজনের করা বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দেন। এ ছাড়া জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অং চ মং মারমা ও দুদকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বালাঘাটার এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, দোকান ব্যবসার জন্য তিনি ইসলামী ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। একই সঙ্গে ঋণের টাকার ব্যবসায় ১৩ লাখ টাকার বিমাও করেছেন। গত বছর অগ্নিকাণ্ডে দোকান পুড়ে যাওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাঁর সই জাল করে দুই লাখ টাকার বিমা দাবি আবেদন করেন।

ওই দুই লাখ টাকাও জাল সইয়ে তুলেও নিয়েছেন। ব্যাংকে ছয় লাখ টাকার আমানতও আটকে দেওয়ায় তিনি এখন কিছু করতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংকের বান্দরবান শাখার ব্যবস্থাপক হানে আলম সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। অবিলম্বে বিমার টাকা ফেরতের ব্যবস্থাসহ সমস্যা সমাধানের জন্য দুদক কমিশনার নির্দেশ দেন। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ, হাসপাতাল ও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র : প্রথম আলো

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।