আলীকদম-দোছড়ি সড়কের মাত্র ১৩ কিলোমিটার সড়ক করতে পেরিয়ে গেছে ১৫ বছর !

বান্দরবানের আলীকদম-নাইক্ষ্যংছড়ি দোছড়ি সড়কের কাজ ১৫ বছর আগে শুরু হলেও এখনও শেষ হয়নি। আলীকদম হতে মাত্র ১৩ কিলোমিটার সড়ক করতে পেরিয়ে গেছে ১৫ বছর। পাহাড়ে বসবাসরত ৬ টি পাড়ার মানুষ এই সড়কের মাধ্যমে নিজেদের জীবনযাত্রা,আয়-রোজগার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখলেও তা যেন অধরা থেকে গেছে। কবে নাগাদ এই সড়ক চলাচলের উপযোগী হবে তা সঠিক ভাবে বলতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা দোছড়ি অংশের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

আলীকদম এলজিইডি সূত্র জানায়, সিএইচটি-১ প্রকল্পের মাধ্যমে ৯ কিলোমিটার এইচবিবি সড়ক করা হয়, পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ১ কোটি ৭ লক্ষ ২৯ হাজার টাকায় নয়াপাড়া বাবুপাড়া সংযোগ সড়ক থেকে বিজিবি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ হয়। পাঁচ বছর পর বাকী ১১ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের জন্য ২৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

আলীকদমের লাল পাড়ার বাসিন্দা ইয়াংরিং ম্রো বলেন, একটি সড়ক করতে যদি ১৫ বছর কেটে যায়, তাহলে এলাকার মানুষের চলাচলে কি অবস্থা তা বুঝে নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নয়াপাড়া-বাবু পাড়া সংযোগ সড়ক হতে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত কার্পেটিং সম্পন্ন হলেও বিজিবি ক্যাম্প হতে মুরুং ঝিড়ি পাহাড়ের আগ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার পুরাতন এইচবিবি সড়ক দৃশ্যমান। সংস্কার ও যোগাযোগের অনুপযোগী হওয়ায় এই সড়কের দুইপাশে ও সড়কের উপর নানা প্রজাতীর গাছপালায় জঙ্গলে পরিনত হয়েছে। বিভিন্ন অংশে রাস্তার উপর পাহাড়ের মাটি ধ্বসে পড়েছে, কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙ্গে খাদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সড়কের অবস্থা এত শোচনীয় যে, যার দরুন পায়ে হেটে যাওয়া দুস্কর।

আলীকদমের লাল পাড়ার অপর বাসিন্দা মেনকোয়া ম্রো, সড়কটি শেষ নাওয়ার কারনে আমাদের চলাচলের ভোগান্তির শেষ নেই, এই দূর্ভোগ কবে শেষ হবে কে জানা ?

স্থানীয়রা বলেন, সড়কটি চলাচলের উপযোগী হতে আরও কত বছর লাগবে জানিনা। সড়কটি হলে ব্যবসা বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা সব ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার হত। কিন্তু হবে হবে শুনছি অনেক দিন ধরে,হচ্ছে না সড়কটি। সড়কটি হলে সদরের সাথে দূর্গম পাড়া গুলোর যোগাযোগ সহজ হবে। সড়কটি না হওয়ার পিছনে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ফোগ্য মার্মা বলেন, সড়কটির অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পরিমাপ করা হয়েছে, কিন্তু কেন হচ্ছে না বুঝতে পারছিনা। সড়কটি হলে আলীকদম থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি হয়ে কক্সবাজার যাওয়া সহজ হবে। পর্যটকরা একসাথে পাহাড় ও সমুদ্র দেখার সুযোগ পাবে।

আলীকদম উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ আহসান জানান,সড়কের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে ৫টি স্কিমে ২৮ কোটি টাকার টেন্ডার হয়ে গেছে, আশা করছি এক বছরের মধ্যে কাজের দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যাবে।

তিনি আরও জানান,পূর্বে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত ২ কিলোমিটার করা হয়েছে, এখন বিজিবি ক্যাম্প থেকে ১১ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং করা হবে।

বান্দরবান জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এনএসএম জিল্লুর রহমান জানান, পারফরম্যান্স সিকিউরিটি পেয়েছি, ঠিকাদারদের সাথে চুক্তি পর এক বছর তিন মাস কাজের মেয়াদ থাকবে। সিএইচটি-১ এর প্রকল্পে শেষ হওয়ায় সড়কের কাজ শেষ করা যায়নি, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কের অসম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করা হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।