কাপ্তাইয়ে পাগলের জন্য যাদের ভালোবাসার পাগলামি

মহৎ, মানবিক, মানবতা, এসব শব্দ দিয়ে আসলে সবকিছু প্রকাশ করা যায় না; কিছু বিষয় তার উর্ধ্বে। ক্ষিদে সবার লাগে, ক্ষিদের যন্ত্রণার চেয়ে পৃথিবীতে বেশী কষ্টের কিছু নেই। নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ যাদের ঠিকানা রাস্তায় সেইসব মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষগুলি সাধারণ সময়ে কোন রকমে খেয়ে জীবন ধারন করলেও “লক ডাউনের” কারনে ফুটপাতের এইসব মানসিক ভারসাম্যহীন থেকে শুরু করে রাস্তার কুকুর সব অভুক্ত, হাহাকার চারিদিকে। করোনা প্রকোপে তারাও অনাহারে জীবন কাটাচ্ছে।

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান থেকে শুরু করে কেপিএম হয়ে কাপ্তাই পর্যন্ত মানসিক ভারম্যহীন মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৩২ জন। তাদের খাবার ঘরে প্রস্তুত করে প্রতিদিন ত্রিশ কিলো রাস্তা পাড়ি দিয়ে জনে জনে বিতরণ করা সহজ কাজ নয়। এই অসাধ্য কাজটি প্রতিদিন মনের আনন্দে করে যাচ্ছে চন্দ্রঘোনা, কাপ্তাই এবং রাংগুনিয়ার মোঃ হায়দার, ইকবাল, হারুন, ইমরান, শহীদুল ও সেকান্দার, মাসুদ পারভেজসহ তারা ১০ জন। আবার এইসব খাবার নিজ হাতে রান্নাবান্নার কাজ করেন ইকবাল এর স্ত্রী। কখনোও চিকেন বিরিয়ানি, খিচুরি, ডিম, সাদাভাত দেওয়া হচ্ছে এদের।

তাদের মানবতা এখানেই শেষ নয়। তাদের উদ্যোগে প্রায় ৮ জন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের মাঝেও খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। আবার খাবার অতিরিক্ত হয়ে গেলে রাস্তার অভুক্ত কুকুরদের মাঝেও বিতরণ করেন তারা। তাদের ইচ্ছা তারা এই খাবার বিতরণ চালু রাখবে যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়।

কেউ বাইক দিয়ে, কেউ শ্রম দিয়ে, আবার অনেকে নাম প্রকাশ না করে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করে আসছে। প্রতিদিনের খাবারে আনুমানিক খরচ হয় ১ হাজার টাকা। মহৎ কাজটি বিগত প্রায় ২৫দিন ধরে চলমান থাকায় স্বাভাবিক কারণে ফান্ড সংকটে। তাই তারা জানান, কোন ব্যক্তি যদি তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চান তাদের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান। পাগলের জন্য তাদের এই ভালোবাসার পাগলামি সত্যিই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাইতো কবি লিখেছেন ” মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।