কোন হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলেন সুমন চাকমা

আক্ষেপ থেকে গত ২৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন চাকমা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছিলেন, আমার করোনা হয়নি, অথচ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে করোনার জন্যেই আমার মারা যেতে হবে। অবশেষে সুমন চাকমা’র আক্ষেপই সত্য হলো।

ক্যান্সারে আক্রান্ত ফুসফুসজনিত রোগে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে আটটায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার দাতকুপা এলাকার আগলাশিং পাড়ার সুপেন চাকমার ছেলে সুমন।

চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে গেলেও করোনা ভাইরাসের ভয়ে চিকিৎসা দেয়নি কোনো হাসপাতাল। ফলে বিনা চিকিৎসাতেই মৃত্যু হয় তার। সুমন চাকমা ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের ২২তম ব্যাচের ছাত্র সুমন জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

সুমনের সহপাঠী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার বন্ধু সুমন অনেকদিন ধরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত। সে সম্প্রতি ভারত থেকে চিকিৎসাও নিয়ে এসেছিলো। পরে তার ফুসফুসজনিত রোগ দেখা দেওয়ায় সে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ঘোরে। শেষ পর্যন্ত বিনা চিকিৎসায় তাকে মারা যেতে হলো।

অনুপম চাকমা নামে তার পরিচতি একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, খবরটি শোনার পর সত্যি ভীষণ খারাপ লাগছে। যে সকালটাতে মানুষ ঘুম থেকে উঠে দিনটা উপভোগের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে, সকালটা শুরু না হতেই তুমি চলে গেলে!

গত ২৬ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া সুমন চাকমা’র স্ট্যাটাস

সুমন চাকমার মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন,এই ধরনের কোনো সংবাদ এখনও ওভাবে পাইনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এর ২২তম ব্যাচ, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী ছাত্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের সদস্য সুমন চাকমা মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।