থানচি থেকে স্থানান্তরিত শতাধিক রোগীর অকালে ঝড়ে গেল প্রাণ !

বান্দরবানের থানচি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র হাসপাতালের ভর্তি রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে অপারগতার কারনে বান্দরবান সদর হাসপাতালের স্থানান্তর (রেফার) করায় শতাধিক রোগী চলন্ত পথে গাড়িতেই অকালে প্রাণ হারান। দীর্ঘ দিন থেকে চিকিৎসক, ঔষধ, জনবল ও সরাজ্ঞামসহ নানা সংকটের থাকা হাসপাতালটিতে নামে মাত্র ৫০ শয্যা হলেও চলে ৩১ শয্যা। উপজেলার ৩০ হাজারেও বেশী পাহাড়ী জনসাধারণকে এ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

উপজেলা সদর থেকে নদীর পথে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিনের দুর্গম রেমাক্রী বাজারে শৈমেপ্রু মারমা, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর সকালে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে ভর্তি হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে। ঘন্টা দুই এক পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কর্তৃপক্ষ এ্যাম্বুলেন্স দেয়নি। অবশেষে চাঁন্দের গাড়ি করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে তার স্বজনরাদের। অক্সিজেনও দেয়া হয়নি, সেদিন থানচি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার অতিক্রম পর ১৬ মাইল নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে শেমেপ্রু মারমা এর স্বামী উশৈনু মারমা এবং তার ছোট ভাই সিংশৈমং মারমা স্থানীয় সাংবাদিকদের ৩ বছর আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার বর্ণনা করেন।

সে সময় শৈমেপ্রু মারমা দুই সন্তান এক স্বামী রেখে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। উসাইশৈ মারমা (১৪), বর্তমানে রাজস্থলি উপজেলা অনাথ আশ্রমে ৮ম শ্রেনিতে পড়েন, শৈসাইমং মারমা (৯),থানচি মডেল প্রাথমিকের ৪র্থ শ্রেনিতে পড়ে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র সূত্র জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১৯৯৫ সালে ৩১ শয্যা চালু হলে ও ২০১৮ সালে ইন্ডোর চালু করেন ২০১৮ সালে। এ পর্যন্ত গত ৮ বছরে শৈমেপ্রু মারমা এর মত (স্থানান্তর রোগী) প্রায় শতাধিক অকালে প্রাণ ঝড়ে গেছে। ২০২২ সালে ৩১ শয্যা থেকে ১৯ শয্যা উন্নিত করেন সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানের ভবন, সরজ্ঞামসহ ৫০ শয্যা রয়েছে।

দেশের সবচেয়ে দুর্গম উপজেলা থানচির মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হতে চান না। চিকিৎসকসহ জনবল সংকটের কারণেই এমন অনীহা। হাসপাতালটিতে উপজেলার মানুষজন চিকিৎসাসেবাও পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ১২ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ (ইউএইচএফপিও) মাত্র দুজন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। ১৮ জন নার্সের পদে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন। ৪ জন মিটওয়াইপ মধ্যে একজনও নেই।

NewsDetails_03

বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৮১ কিলোমিটার দূরে থানচি উপজেলা পরিষদের কিছু দূরে সাঙ্গু নদের তীর ঘেঁষে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থান। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, সৌরবিদ্যুতের সুবিধাসহ আধুনিক প্রায় সব ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদসহ (টেকনিশিয়ান) ন্যূনতম জনবল না থাকায় সব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ কারণে রোগীরাও বাধ্য না হলে হাসপাতালমুখী হতে চান না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

এ্যাম্বুলেন্স চালক মংক্যসিং মারমা সাংবাদিকদের বলেন, আমি ২০১৯ সালে যোগদান করেছি, আমার যোগদান পরবর্তী হতে রেফার করার রোগী আমার গাড়িতে শিশুসহ অন্তত ৭ জন মারা গেছে।

পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পংঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, চিকিৎসা সাপোর্টের সরজ্ঞাম স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদসহ (টেকনিশিয়ান) ন্যূনতম নেই, কর্তৃপক্ষ পোষ্টিংকৃত চিকিৎসক যোগদান না করা, এছাড়াও জনবল না থাকায় সব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ কারণে রোগীরাও বাধ্য না হলে হাসপাতালমুখী হতে চান না।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, চিকিৎসক, নার্স, মিটওয়াইপ, জনবল ও সরজ্ঞাম সংকটের কারনে সাধারণ রোগী ছাড়া অন্যান্য রোগীদের স্থানান্তর করে চলন্ত পথে অকালে ঝড়ে যেতে হয় প্রাণ। কর্তৃপক্ষকে লিখিত,অলিখিত হাজার বার জানানো পর ও কোন সমাধান হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমি উপজেলা, জেলার মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থিত থেকে জোরালো দাবী রেখেছি এবং আমার দাবী রেজুলেশানের অন্তর্ভূক্ত করেছি। কিন্তু আদৌ কোন ব্যবস্থা গ্রহনের পরিলক্ষিত হয়নি।

আরও পড়ুন