নাইক্ষ্যংছড়িতে জমি দখল নিতে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা !

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে বহু বছরের ভোগ দখলীয় ও ক্রয়কৃত জমি দখল নিতে ৭৩ বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলার অভিযোগ উঠেছে। ৬১ শতক জমি দখলের জন্য ভূমিদস্যুরা জাল কাগজ সৃজন ও ভাড়াটিয়া এক নারীর মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামের অধিবাসীরা। এ সংক্রান্ত একটি অডিও ফাঁস হওয়ায় এলাকায় দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের করলিয়ামুড়া ও রামুর ঈদগড় সীমানা এলাকায় ৬১ শতক জায়গার উপর দোকান নির্মাণ করে বহু বছর ধরে ভোগ দখলে ছিল নজির আহমদ (৭০) ও জাফর আহমদ। সরকারকে বছরের পর বছর খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন তারা।
পরে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে ওই জমিটি বিক্রি করেন স্থানীয় জনৈক শফিউল আলমকে। সময়ের ব্যবধানে ওই জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় হঠাৎ এই জমির মালিকানা দাবী করে বসেন আলী আহমদ (প্রকাশ গুরিচ্যা), মো: হোছন, আবদুল করিম, ছৈয়দ হোছন, আইয়ুব আলী।
এ ঘটনায় নজির আহমদ ওই জমিটির বিষয়ে ২০১৬ সনের ২৩ অক্টোবর আদালতে আশ্রয় নিলে ভূমিদস্যুরা কৌশল পাল্টান। এক মাস পর ১৪ নভেম্বর ভূমিদস্যুরা জমির মূল মালিক ৭০ বছরের বৃদ্ধ নজির আহমদ ও বর্তমান মালিক শফিউল আলমকে ফাঁসাতে বান্দরবান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল আদালতে (৫৫/১৬) একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন।
নারী নির্যাতন মামলার বাদী রহিমা বেগমের বাড়ির পার্শ্ববর্তী মুদি দোকানদার আজিজুল হক, প্রতিবেশী কাছিম আলী, আনোয়ারা বেগম প্রতিবেদককে জানান, ১৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে রহিমা বেগম আমার দোকানে এসেছিল কিন্তু দোকানের আশ-পাশে বা ঘটনাস্থল দেখানো ছালেহ মাষ্টারের গলাছিরা মুখ নামক এলাকায় ধর্ষণের কোন ঘটনাই ঘটেনি।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার আনোয়ার সাদেক ও মহিলা ইউপি মেম্বার সেলিনা আক্তার বেবী এই প্রতিবেদককে বলেন, করলিয়ামুড়া এলাকায় ধর্ষনের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে নজির আহমদ ও শফিউল আলমের সাথে স্থানীয় আলী আহমদগং এর মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে, এ কারনে মিথ্যা মামলার সূত্রপাত হতে পারে।
এদিকে নারী নির্যাতন মামলার বাদী রহিমা খাতুন বলেন, আলী আহমদ (প্রকাশ গুরুচ্যা) এর বিশেষ অনুরোধে আমি বান্দরবানে গিয়ে মামলার অভিযোগে স্বাক্ষর করেছি, আমিও জানি এটি মিথ্যা মামলা। তবে আমার ছোট বোনের স্বামী ছৈয়দ হোছেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়া হলে আমার নারী নির্যাতন মামলাটি তুলে নেব (ওডিও রেকর্ড সংরক্ষণ আছে পাহাড়বার্তার কাছে)
হয়রানির শিকার নজির আহমদ, জাফর আহমদ, শফিউল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, জমি দখলের উদ্যেশ্যে আলী আহমদ ওই নারীকে ব্যবহার করে মামলাটি করেছে। এর আগে ওই মহিলা ওয়াজ করিম ও আবু ছৈয়দ নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল, যা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। বর্তমানে ভূমিদস্যুরা প্রতিনিয়ত তাদের হত্যা করে গুম করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ ভূমি দালাল চক্র বাইশারীতে জাল দলিল ও খতিয়ান সৃজন করে অসহায়, দরিদ্র সাধারন মানুষদের হয়রানি করে আসছে। টাকার লোভে এসব ভূমি দালালরা সাধারন মানুষদের ক্ষতি করে যাচ্ছে নিয়মিত। এসব ভূমি দালাল চক্রের হয়রানি বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন ভূমি মালিকরা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।