নাইক্ষ্যংছড়ির ৩ ইউনিয়ন পরিষদের তফসীল ঘোষণায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তিন ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইসির উপসচিব মোঃ আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তফসিল ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী আগামী ১৪ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম সংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তফসিল অনুযায়ী নাইক্ষ্যংছড়ি সদর,সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১২ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৫ সেপ্টেম্বর। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ সেপ্টেম্বর। আর এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে।

গত বুধবার সকালে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য কেউ কেউ সরকার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় জেলার নেতাদের তদবির, আর কেউ ভোটারদের এলাকার চায়ের দোকান, মানুষের সমাগম স্থলে গিয়ে দোয়া ও কুশল বিনিময় করে যাচ্ছে।

আরো জানা গেছে, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তে অপেক্ষায় দিন গুণছে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়ন,সোনাইছড়ি ইউনিয়ন ও ঘুমধুম ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দৌঁড়ঝাপ দেখা যাচ্ছে বর্তমান সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি তসলিম ইকবাল চৌধুরী,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আবছার ইমন, কৃষক লীগ নেতা সাইফুদ্দীন মামুন শিমুল।

আরো যারা প্রার্থী হতে পারেন,উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বদরুল্লাহ কবির বিন্দু, বিএনপি নেতা নুরুল কাশেম, মাওলানা মো,সুলতান, আরেফ উল্লাহ ছুট্টু, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বাহাইন মার্মা ও আওয়ামী লীগ ইউনিয়ন সভাপতি এ্যানিং মার্মা,বিএনপি নেতা ডা:ছহ্লা মং মার্মা, ঘুমঘুধুম ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা এ,কে,এম জাহাঙ্গীর আজিজ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি মো. হারেছ ও আওয়ামী লীগ নেতা সঞ্জীব তংচংগ্যা।

বিএনপির নেতা নুরুল কাশেম জানান,এখনো জেলা থেকে দলীয় ভাবে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তবে দলীয় ভাবে নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছেন বিএনপির এই নেতা।

এই সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠকসহ বিভিন্নভাবে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। পিছিয়ে নেই সম্ভাব্য মেম্বার ও মহিলাসহ মেম্বার প্রার্থীরাও তারাও বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রচারণা চালাচ্ছে।

সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন,’সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ছৈয়দ মৃত্যুর পর আমি উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহন করে ভোটারেরা আমাকে মাত্র দুই বছর জনগণের সেবা করার সুযোগ দেয়ায় আমার প্রিয় নেতা বীর বাহাদুর এমপির সহযোগিতায় এবং আমার সাধ্যমতো এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি। আগামী ১৪ অক্টোবর ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হলে নির্বাচিত নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নকে উন্নয়নের রোল মডেল করবো।’

সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থী এ্যানিং মার্মা বলেন,’আমি নির্বাচিত হলে সোনাইছড়ি ইউনিয়নে মাদক নির্মূল, বাল্যবিয়ে বন্ধসহ বিভিন্ন সামাজিক অসঙ্গতি বিরুদ্ধে কাজ করবো।’ অন্যদিকে ঘুমধুমের সম্ভাব্য প্রার্থী একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ভোটারেরা আমাকে ফের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলে আমি উন্নয়ন কাজগুলো আরও এগিয়ে নিতে চাই।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক মোঃ ইমরান মেম্বার জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে বর্তমান চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী, ঘুমধুম ইউপিতে একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ ও সোনাইছড়িতে নবাগত এ্যানিং মার্মাকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা গোপন ব্যালেটের মাধ্যমে একক প্রার্থী মনোনীত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, সরকারি দলের চেয়ারম্যান পদ চূড়ান্ত মনোনয়ন নৌকা প্রতীক দেয়ার জন্য তৃণমূল থেকে রাজনৈতিক দলের নেতারা জেলার শীর্ষ নেতাদের কাছে তথ্য পাঠিয়েছেন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।