বান্দরবানে ২ তরুণকে মধ্যযুগীয় নির্যাতন : পরে পুলিশে সোপর্দ

চুরির অভিযোগ

বান্দরবানে চুরির অভিযোগে দুইজনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হওয়া দুই তরুণ হলেন, তাজউদ্দীন ও উলামং। তাদের উপর অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম বান্দরবান সদর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য। নির্যাতনের শিকার তরুণরা বান্দরবান সদর ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড গোয়ালিয়া খোলা এলাকার বাসিন্দা।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি চায়ের দোকানে মর্ধ্যযুগীয় কায়দায় পিছ মোড়া বেঁধে চুলের মুঠি ধরে মারধর করা হচ্ছে এই দুই তরুণকে।পরে বাঁধন খুলে তাজ উদ্দীনকে পুনরায় মারধর করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে প্লাস দিয়ে হাতের নক তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে শহীদ মেম্বার ।যেখানে তাজ উদ্দীনের আত্ন চিৎকারে ভারি হয়ে উঠছে চার পাশ।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২৬ অক্টোবর রাতে গোয়ালীয়া খোলা এলাকার একটি চুরির ঘটনায় অভিযোগ তোলে তাজ উদ্দীন (২৪) ও উলামং মারমার বিরুদ্ধে।২৭ অক্টোবর শালিসের কথা বলে তাদের নেয়া হয় বান্দরবান সদর ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের রোয়াজা পাড়া এলাকার চিনুমং মারামার চায়ের দোকানে।সেখানে গেলে প্রথমেই দুই জনকে পিছ মোড়া বেঁধে চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়ে। মারধরের সময়কার মধ্যে অন্তত দুইবার জ্ঞান হারায় তাজ উদ্দীন।শেষবার জ্ঞান ফেরার পর প্লাস দিয়ে হাতের নক উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন শহীদ মেম্বার।পরে চুরির অভিযোগে পুলিশে সোপর্দ করা হয় তাদের।

NewsDetails_03

এই বিষয়ে অভিযুক্ত শহীদ মেম্বার বলেন, দুই তরুণকে স্থানীয়দের রোষানল থেকে রক্ষা করতে তাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে, অন্যকিছু করা হয়নি।

নির্যাতনের শিকার তাজ উদ্দীনের পিতা আহমদ হোসেন বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে শহীদ মেম্বার মধ্যযুগীয় কায়দায় পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে, ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।

এবিষয়ে আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, একজন ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কোন ইউপি সদস্যই পাশবিক নির্যাতন করতে পারেন না। ১নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কোন ঘটনায় শালিসি বৈঠকে কোন ব্যক্তিকে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি উদ্দেশ্য মূলক, আইন পরিপন্থী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড।

এই বিষয়ে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল করিম জানান, আগের চুরির মামলায় গোয়ালীয়া খোলা এলাকা থেকে দুই জনকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে। এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার তাজ উদ্দীনের পিতা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন