রাঙামাটিতে এবার নিরবে প্রতিমা বিসর্জন

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে (২২ অক্টোবর) ষষ্ঠীতে শুরু হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। পরের তিন দিন আনন্দের বর্ণিল ছটা ছড়িয়ে যায় সর্বত্র৷ আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সেখানে বাজলো বিষাদের করুণ সুর। বছর ঘুরে আবার আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখো ভক্তকে ভারাক্রান্ত করে ঘোড়ায় চড়ে বিদায় নিলেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। এরই মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

বিজয়া দশমী শেষে করোনা বি‌ধি মেনে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) কাপ্তাই হ্রদে নিরবে বিসর্জন দেয়া হয়েছে দেবী দুর্গাকে। সন্ধ্যায় রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের তীরে ‘দুর্গা মা কি, জয়। মহামায়া কি, জয়।’ একের পর এক এমন জয়ধ্বনি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টা বাজিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

তবে পূর্বের বছরগুলোর মত মটর সাইকেল কিংবা ট্রাক শোভযাত্রার মধ্যে দিয়ে কাপ্তাই লেকে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়নি নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে।

ভক্তকুলকে কাঁদিয়ে মর্ত্য থেকে প্রস্থান করলেন জগতের দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গা। নানা আচার অনুষ্ঠানে পূজা অর্চনার মধ্য দিয়ে সার্বজনীন অংশে রাঙামাটিতে শেষ হল সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। শঙ্খ, ঢাক, ঢোল বাজিয়ে ভক্তরা দেবীর প্রতিমা বিসর্জন দেন। ওই সময় ভক্তদের চোখের জল গড়ায় কাপ্তাই হ্রদে।

এবছর শহরসহ রাঙামাটি জেলায় মোট ৪০টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রাঙামাটিতে ২২ অক্টোবর ষষ্ঠীপুজা দিয়ে শুরু এ ধর্মীয় মহাযজ্ঞ আজ মঙ্গলবার বিকালে কাপ্তাই হ্রদে মহিসাসুরমর্দিনী দুর্গতিনাশিনী মা দেবীদুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

প্রথা অনুযায়ী, প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে শান্তির জল মঙ্গলঘটে নিয়ে তা হৃদয়ে ধারণ করা হয়। আগামী বছর আবার এ শান্তির জল হৃদয় থেকে ঘটে, ঘট থেকে প্রতিমার সম্মুখে রেখে পূজা করা হবে।

প্রসঙ্গত, এবারে রাঙামাটিতে জেলায় ৪০টি ও পৌর রাঙামাটির পৌর এলাকায় ১১টি পুজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাউৎসব উদযাপন হয়েছে এবং আজ সোমবার দশমী পালনের মধ্য দিয়ে সনাতনী সমাজের এই বৃহত্তম শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি হয়েছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।