সেতু নির্মাণে ধীরগতি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী
বান্দরবানের কাশেম পাড়া
বান্দরবানের ৯নং ওয়ার্ডের কাশেমপাড়া এলাকায় একটি পুরাতন সেতু ভেঙ্গে নতুন সেতুর কাজ শুরু করেছে পৌরসভা, তবে কাজ শুরু করার পরে পুরাতন সেতুটি ভেঙ্গে ফেলার পর বর্ষার অতিবৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। ফলে স্থানীয়দের দূর্ভোগের শেষ নেই।
এদিকে পুরাতন সেতুটি ভেঙ্গে ফেলার পর সেখানের ওপর দিয়ে সাধারণ জনগণের চলাচলের জন্য কাঠ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে যাতায়তের জন্য ব্যবস্থা করা হলেও সেটিও ভেঙ্গে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। ঝুঁকিপূর্ণ এই অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে নানা ধরণের দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৬ হাজার জনগণের বসবাস বান্দরবান পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের কাশেমপাড়া এলাকায়। স্থানীয় জগণের সুবিধার্থে পাড়াটির প্রবেশের মুখে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ম্যাকছি চড়ার উপর একটি নতুন সেতু তৈরির কাজ শুরু করে পৌরসভা। কাজ শুরু করার প্রথম পর্যায়ে পুরাতন জরাজীর্ণ একটি সেতুটি ভেঙ্গে ফেলে ঠিকাদার। এদিকে জরাজীর্ণ সেতুটি ভেঙ্গে ফেলার পর থেকেই বান্দরবানে বাড়তে থাকতে বৃষ্টির পরিমান আর ম্যাকছি চড়ার পানি বৃদ্ধির কারণে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে যায় অন্যত্র। এদিকে পাড়ায় প্রবেশের মুখে একমাত্র সেতুটি ভেঙে ফেলায় আবার তার উপর অস্থায়ীভাবে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুঁকিপূণ সেতু দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রতিদিন ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
কাশেমপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো.আবু তৈয়ব জানান, জনগণের সুবিধার জন্য নতুন সেতু তৈরি করতে গিয়ে ঠিকাদার অন্যত্র চলে গেছে আর পুরাতন সেতু ভেঙ্গে ফেলায় এলাকার জনগণের ভোগান্তীর শেষ নাই।
৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো.আবুল কালাম জানান, এই এলাকার প্রবেশমুখে একটি সেতু ভেঙ্গে ফেলায় জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে তা বলারমত নয়। অস্থায়ীভাবে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুঁকিপূর্ন সেতু দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থী আহত হচ্ছে কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে উদাসীন।

সেতুর পাশেই অবস্থিত কাশেমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে বিদ্যালয়টি শিক্ষকসহ প্রচুর শিক্ষার্থী। অস্থায়ীভাবে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুঁকিপূণ এই সেতু দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী হয়েছে আহত। এদিকে বিদ্যালয়ের মাঠে ঠিকাদারের বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায় বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক কর্মকান্ডেও ঘটছে নানা বিপত্তি।
কাশেমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক উ সিং প্রু মারমা বলেন, প্রতিদিন আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী এই অস্থায়ী সাকো দিয়ে পারাপার হয়, তবে এত ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা চলাচল করলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে নতুন সেতুটির কাজ শুরু না হওয়ায় আমরা প্রচুর ভোগান্তীর মধ্যে রয়েছি।
সহকারী শিক্ষক উ সিং প্রু মারমা আরো বলেন, ঠিকাদার বিভিন্ন মালামাল আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে আর তাই আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রচুর কষ্ট হচ্ছে যাতায়াতে।
বান্দরবান পৌরসভার তথ্যমতে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর অর্থায়নে বান্দরবান পৌরসভার বাস্তবায়নে প্রায় ২৩লক্ষ ৭হাজার ৪শত ৭৪টাকা ব্যয়ে ৩২ফুট দীর্ঘ এই সেতুটি তৈরির কাজ পায় মায়াধন কনস্ট্রাকশন। ২০২৪সালের ১লা জুলাই থেকে এই সেতু তৈরির মেয়াদ ছিল ২০২৪সালের ৩১ডিসেম্বর, কিন্তু কাজের মেয়াদ শেষ হলেও ঠিকাদারের চরম গাফিলতির কারণে সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস, এম, মনজুরুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কাশেম পাড়ার সেতুটি ঠিকাদার সঠিক সময়ে নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বিষয়টি আমি জেনেছি এবং সেখানে প্রচুর জনদুর্ভোগ হচ্ছে এমন সংবাদ পাওয়ায় পর বান্দরবান পৌরসভার প্রকৌশল শাখার একটি টিম ঘটনাস্থল গিয়ে পরিদর্শন করে এসেছে এবং আশা করছি সেতুটি নির্মাণ করা হবে এবং জনদুর্ভোগ কমে আসবে।



