৪ দশকেও আলোর মুখ দেখেনি লামার কয়লা খনি

বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রায় ৪০ বছর আগে একটি কয়লা খনির সন্ধান পাওয়া গেলেও এখনো সুনজরে আসেনি সরকারের সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের। অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে পাহাড়ে প্রাকৃতিক সম্পদের অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্রটি। নেওয়া হয়নি কোন সংস্কার কিংবা সংরক্ষন কার্যক্রম।

উপজেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার পূর্বে উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়ন সদর, ইউনিয়ন সদর থেকে পূর্বদিকে মংপ্রু পাড়া পর্যন্ত কার্পেটিং সড়ক হয়েছে। মংপ্রুপাড়া থেকে খনিটির দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার। খনি থেকে সরকারি উদ্যোগে কয়লা উত্তোলন করা হলে বদলে যাবে জেলার অর্থনীতি। ফলে এ খনি থেকে কয়লা আহরণের জন্য বাপেক্স ও বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন উপজেলাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮১-৮২ সালের দিকে নিকটবর্তী নারী-পুরুষরা পাহাড় থেকে কাঠ-বাঁশ ও লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখতে পান কয়লা খনিটি। পরে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জানাজানি হয়। নদীপথ দিয়ে ছৌলুম ঝিরিতে গেলেই দেখা যাবে ঝিরিতে ও এর আশপাশের পানিতে কয়লা ভাসছে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে এই কয়লা। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়লার অস্তিত্বের দেখা মেলে।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের শাসন আমলে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কয়লা খনিটি পরিদর্শন করে যান। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা এ খনির ভাসমান কয়লার মান অত্যন্ত ভালো ও জাতীয় মানের বলে উল্লেখ করেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ি এলাকায় নদী, ছড়া, ঝিরি ও খাল হচ্ছে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। আর নদীপথ দিয়ে গেলেই ছৌলুমঝিরিতে দেখা যায় দু’পাড়ে ভাঁজে ভাঁজে ভাসমান কয়লা। স্থানীয় অনেকেই এ কয়লা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে।

লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ছৌলুমঝিরিতে প্রায় ১১ হাজার একর পাহাড়ি জায়গার ওপর রয়েছে এ কয়লা খনিটি। পূর্বে অনুন্নত যোগাযোগ হলে বর্তমানে মাত্র ২-৩ কিলোমিটার রাস্তার কারণে এখনও আলোর মুখ দেখেনি এই কয়লা খনিটি। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর উপজেলায় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান নেই। তাই এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বনজ সম্পদ নির্ভর শ্রমজীবী। তাদের জীবন-জীবিকা পাহাড়ের বাঁশ, কাঠ, জ্বালানি কাঠ আহরণ ও জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল।

ছৌলুমঝিরির কয়লা খনি এলাকার আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান সংস্থা বাপেক্স কর্মকর্তারা খনিটি পরিদর্শন করেন। বাপেক্স কর্মকর্তারা বিষয়টি সংশি¬ষ্ট অধিদপ্তরে জানাবেন বলে এলাকাবাসীকে আশ্বস্থ করে যান। কিন্তু আজও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এদিকে রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা ও সদস্য নাংক্রাত মুরুং জানায়, মৌজা হেডম্যান ও কারবারীদের নিয়ে আমরা খনিটি দেখভাল করছি। কয়লার খনিটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হলে একদিকে বিপুল অংকের খনিজ সম্পদ আহরণ করে সরকারি কোষাগার চাঙ্গার পাশাপাশি এলাকার শত শত বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

এই বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজা রশীদ বলেন, কয়লা খনির বিষয়টি জানতাম না, খোঁজ নিয়ে খনির বিষয়টি সংশি¬ষ্ট বিভাগের নজরে আনার চেষ্টা করবো।

এদিকে লামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা জামাল জানান, এই কয়লা খনিটি পার্শ্ববর্তী মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অন্যতম উৎস হতে পারে। তাই দ্রুত কয়লা খনির জায়গা সরকারি উদ্যোগে অধিগ্রহণ করে কয়লা আহরণের কাজ শুরু করতে অনুরোধ জানান তিনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।