বান্দরবানের থানচি উপজেলায় প্রত্যাবর্তনকারী বম সম্প্রদায়ের টেকসই পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে পুকুর খনন, পাঁচ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত এবং সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও লাইটসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার প্রত্যাবর্তনকারী বম সম্প্রদায়ের পাইনোয়ামপাড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে খননকৃত পুকুরে পাঁচ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ–সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, লাইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। এসব উপকরণ গ্রামের কারবারি পারকেল বমের হাতে তুলে দেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।
সেনাবাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে বম সম্প্রদায়ের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) গঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ বম সম্প্রদায়ের সদস্য ভারতের মিজোরামে চলে যান। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বম সোশ্যাল কাউন্সিলের উদ্যোগে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রায় ২১৫টি পরিবার দেশে ফিরে আসে। প্রত্যাবর্তনের পর গত তিন বছর ধরে এসব পরিবারের পুনর্বাসনে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সেনাবাহিনী।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রত্যাবর্তনকারী বম সম্প্রদায়ের টেকসই পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের অধীন ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে খননকৃত পুকুরে রুই, সরপুঁটি, তেলাপিয়া ও নাইলোটিকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পাশাপাশি উপকারভোগীদের মধ্যে মাছের খাদ্য (ফিড) ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও বিতরণ করা হয়।

উপকারভোগী পারকেল বম বলেন, “আমরা আর কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেব না। আমরা সবসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশে থাকব। সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।”
অনুষ্ঠান শেষে বাকলাইপাড়া সাবজোনের কমান্ডার মেজর আসিফ জুবায়ের বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাছ চাষের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা বিদ্যুৎ–বঞ্চিত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও উন্নত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই কর্মসূচির আওতায় পাইনোয়ামপাড়ার বিদ্যুৎ–সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর মাঝে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষার পরিবেশ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করছি।”
মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে বাকলাইপাড়া সাবজোনের সেনাসদস্য, স্থানীয় কারবারি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


