মানিকছড়িতে গৃহবধূ খুন : স্বামী ও শাশুড়ি আটক
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার পূর্ব গচ্ছাবিল এলাকায় মাইনুর বেগম (২৩) নামের এক গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী আবুল কালাম (৩২) ও শাশুড়ি খাদিজা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর পূর্ব গচ্ছাবিল ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক আবুল কালামের সঙ্গে ২০১৬ সালে যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের পাক্কাটিলা এলাকার আবু তাহেরের মেয়ে মাইনুর বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে ৫ বছর ও ৮ মাস বয়সী দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে মাইনুর বেগমের সঙ্গে স্বামী আবুল কালামের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে আবুল কালামের উপর্যুপরি আঘাতে মাইনুর বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে ফেলে রাখা হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঘাতক স্বামী আবুল কালাম নিজেই তাঁর শ্বশুর আবু তাহেরকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ মানিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে। এ সময় স্বামী আবুল কালাম ও শাশুড়ি খাদিজা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহত মাইনুর বেগমের বাবা আবু তাহের বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেন,”ওরা আমার মেয়েকে স্বামী ও শাশুড়ি মিলে অমানবিকভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। এই নিষ্পাপ ৫ বছর ও ৮ মাস বয়সী নাতি দুটির কাছে আমি কী জবাব দেব? আমি আমার মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী ও শাশুড়িকে থানায় আনা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।”



