সড়ক ও জনপদ বিভাগের উচ্ছেদের নামে প্রহসন !

জনমনে ক্ষোভ

বান্দরবানে সড়ক ও জনপদ বিভাগের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের নামে প্রহসনের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বান্দরবান কেরানি হাট সড়কের সুয়ালক টোল পয়েন্ট এলাকায় এঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বান্দরবান সড়ক ও জনপদ বিভাগের দ্বায়ীত্বাধীন বান্দরবান কেরানীহাট সড়কের সুয়ালক,মাঝের পাড়া, মেঘলা,কানাপাড়াসহ দুই পাশে কয়েক শত কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করে ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে দখলদারেরা। টাকার বিনিময়ে এসব দখলদাররা দীর্ঘদিন ধরে বহাল রয়েছে এবং এনিয়ে সড়ক বিভাগের তেমন কোন প্রতিক্রিয়াও নেই। তবে আজ সকালে আগাম নোটিস ও কোন বিচারক ছাড়াই বান্দরবান-কেরানী হাট সড়কের সুয়ালক টোলপয়েন্ট এলাকায় কামাল নামের এক ব্যক্তির দোকানের পিলার ভেঙে দিয়েছেন যা মূল সড়ক থেকে প্রায় ২০ ফুটেরও বেশি দুরত্বে।পক্ষান্তরে একই এলাকায় শুন্য থেকে পাঁচ ফুট দূরত্বে অন্তত ৫০ টি দোকান থাকলেও ওইসব দোকান না ভেঙে ২০ ফুট দুরত্বে থাকা এই দোকাটির পিলার ভেঙে দিয়েছেন। ফলে দোকান ঘরটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ার পাশাপাশি এটিকে উদ্দেশ্য মুলক বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

সুয়ালক এলাকার প্রবিন ব্যক্তি সুলতান আহম্মেদ বলেন, কয়েক দশক ধরে এই এলাকায় অস্থায়ী ভাবে দোকান ঘর ও বাসা তৈরি করে বসবাস করে আসছেন। তবে সড়ক লাগোয়া এই এলাকায় অনেক দোকান থাকা সত্বেও অন্য কোন দোকান না ভেঙে এই এলাকায় সড়কের সব ছেয়ে দুরত্বে থাকা কামালের দোকানটি ভেঙে দিয়েছে তারা। যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য মূলক বলে দাবি করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার অপর এক দোকানী বলেন, কয়েকদিন আগে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মচারি পরিচয় দিয়ে বলেন, ওই এলাকায় দোকান বা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে স্যারকে দোকান প্রতি ৩ হাজার টাকা হারে দিতে হবে। অন্যতায় দোকান বা বাসা ভেঙে দেয়া হবে। তাই বাধ্য হয়ে বলে কয়ে ২ হাজার টাকা তাকে দিয়েছেন তিনি। তবে এই এলাকার অন্য দোকানীরা কি দিয়েছে বা কি করেছে তা তার জানা নেই।

NewsDetails_03

ক্ষতিগ্রস্থ কামাল বলেন, আজ সকালে দোকান বন্ধ রেখে সুলতান পুর এলাকায় কাজে গিয়ে ছিলেন তিনি।পরে পার্শ্ববর্তীরা ফোন পেয়ে দোকানে এসে দেখেন,তার একদশকের বেশি পুরোনো দোকানের তিনিটি পিলার ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং তার দোকানের চেয়ে সড়কের আরও কাছের কোন দোকানে আঘাত করা হয় নি। এছাড়া দোকান ভাঙার জন্য কোন প্রকার আগাম নোটিসও দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এনিয়ে জানতে বান্দরবান সড়ক ও জনপদ বিভাগের অফিসে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সাখাওয়াত হোসাইনকে পাওয়া যায় নি এবং মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।

তবে উপ সহকারী প্রকৌশলী অংশুই প্রু মারমা বলেন, বান্দরবান কেরানী হাট সড়কের সওজ বিভাগের যে জায়গা গুলো দখল হয়ে গেছে তার মধ্যে ৩ টি উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং এই পর্যন্ত ৩০৭ জনকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুরোনো গুলো বাদ দিয়ে নতুন করে যারা স্থাপনা নির্মাণ করছে তাদের গুলো বেঙে দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হয় বেশ কয়েকটি গনমাধ্যমে।

আরও পড়ুন