রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দীপন তালুকদার দীপু। একই সঙ্গে ১৪ জনকে সদস্য করে মোট ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব মোছা. তাসলিমা পারভীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনী আইনের বিধান অনুযায়ী সরকার এ পরিষদ পুনর্গঠন করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার ছাড়াও নতুন পরিষদের সদস্যরা হলেন—শাশ্বত চাকমা, বিল্টু চাকমা, সুবিমল চাকমা, অনিল বরণ চাকমা, উথোয়াইমং মারমা, পাইচিং মং মারমা, মিজ প্রেমা তালুকদার, তিমথী খিয়াং, সুপর্ণ দেব বর্মন, মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, মো. তোফজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ ফারুক, মিজ নন্দিতা দাশ ও মিজ চন্দ্রা চাকমা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনী আইনের বিধান অনুযায়ী পরিষদের সব দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে, ৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে জারি করা পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে তৎকালীন সরকার স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন করে প্রথমবারের মতো এ পরিষদের নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের পরিবর্তে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ মনোনয়ন দিয়ে আসছে। নতুন পরিষদটি এ ধারাবাহিকতায় গঠিত ১১তম অনির্বাচিত পরিষদ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট আইনের কাঠামোর কারণে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে বিশেষ ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানের অংশ হিসেবে ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে এসব পরিষদের ক্ষমতা ও কার্যপরিধিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়।


