করোনার সুযোগে পুরানো ইট দিয়ে থানচি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রাচীর নির্মাণ করছে ঠিকাদার

ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কমীরা ব্যস্ত আছেন আতংকের ভাইরাস করোনা নিয়ে। আর এই সুযোগে মুনাফাখোর ঠিকাদার পুরোনো ইট, কংক্রিট ও ময়লা অবর্জনা মিশ্রিত বালি দিয়ে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর নির্মান কাজ করছে দূর্নিতীবাজ ঠিকাদার।

জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের যৌথ অর্থায়নে থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর প্রায় ১ হাজার ৫ শত বর্গফুট নির্মান কাজ করছেন। সেখানে নির্মাণ সংস্থার ঠিকাদার মোঃ আরিফ করোনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যস্ততার মধ্যে উপঠিকাদার মোঃ সাজু সাইট মাঝিকে নিয়োগ করে ৩৭ শ্রমিক দিয়ে নির্মান কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বলিপাড়ার বাসিন্দা ওয়ইনুমং মারমা বলেন, আমি এই রাস্তায় হাঁটা হাঁটি করি সব সময়, প্রাচীর নির্মান কারীরা নিন্মমানের ইট ব্যবহার তো করেছেই, মাটিযুক্ত ঝিড়ির বালি দিয়ে সিমেন্ট মিশ্রণ করে কাজ করেছে। নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারনে গতকাল সকালে প্রাচীরের কিছু অংশ ধসে গেছে।

সরেজমিনে ২১ মার্চ শনিবার দেখা যায়, প্রায় অধিকাংশ কাজ ৬ শ্রমিক মিলে গত ২৬ দিনে করে ফেলেছেন বলে মিস্ত্রী নূর হোসেন (৩৪) জানান । তিনি বলেন, ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফ স্যার যেভাবে আমাকে করতে বলছে সেভাবে কাজ সম্পাদন করেছি ।

স্থানীয় বাসিন্দা নেপাল কর্মকার বলেন, এই রাস্তায় আমি দিনে ২/৩ বার চলাচল করি, প্রাচীর নির্মানে নিন্মমানের ইট, বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করেছে তা আমিও দেখেছি। দেখার সাথে সাথে এই কেন্দ্রের ডাক্তারকেও জানিয়েছি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট ডাঃ মেথোয়াইনচিং মারমা জানান, এ বিষয়ে গত ১৮ মার্চ উপজেলা মেডিক্যাল অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। আমার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আমাকে লিখিত নাহলেও মৌখিক ভাবে আশ্বাস দিয়েছেন যে, কেন্দ্রের সামনে প্রাচীর সবগুলো ও দক্ষিণ সাইডে কিছু অংশ ভেঙ্গে আবার নতুন ইট ও ঝংকারের বালি দিয়ে নির্মান করে দেওয়া হবে।

এই ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অনাদির রজ্ঞন বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, সীমানা নির্ধারনের জন্য আমি গত ১০ বছর ধরে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এখনও সীমানা নির্ধারন হয়নি। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের যে পরিমান জমি রয়েছে তা উদ্ধার করা জরুরী। সীমানা নির্মাণ কাজের নির্মাণ শ্রমিকরা আমার সামনে পুরোনো ইট,রড সিমেন্ট, মাটি মিশ্রিত বালি, পানির কিউরিং ব্যবস্থা নেই, যা ইচ্ছেই তা করছে।

এই ব্যাপারে তদারক ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার সংস্থার কর্ণধার মোঃ আরিফ বলেন, আমি কিছু জানিনা,আমার উপরের কর্তৃপক্ষ জানেন, আমি সামান্য চাকুরী করি। তাদের নির্দেশে আমি করতে বাধ্য।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।