কাপ্তাইয়ে ১০ বছর ধরে চলছে অবৈধ ইটভাটা !

বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

রাঙামাটি কাপ্তাইয়ের ২ নং রাইখালী ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকা। পাহাড়ী অধ্যুষিত এই এলাকা। চন্দ্রঘোনা-বাংগাল হালিয়া সড়ক হতে কারিগর পাড়া নেমে ডান দিকে প্রায় ৫ কিঃ মি পাহাড়ী পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয় এই এলাকায়। অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকে এই এলাকা। তাই প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অবৈধ ভাবে চলছে ইটভাটার কার্যক্রম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে লাইসেন্স বিহীন ভাবে ওই ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে একটি প্রভাবশালী মহল। কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের কারিগর পাড়া বন রেঞ্জ এলাকার মধ্যেই প্রভাব খাটিয়ে এবং সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ইট ভাটার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে একটি প্রভাবশালী মহল। কথিত আছে, পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক সংগঠনকে বছরের পর বছর চাঁদা দিয়ে এই কার্যক্রম তাঁরা পরিচালনা করে আসছেন।

অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ৫ একর জায়গা জুড়ে গ্রামের মাঝখানে ওই ইটভাটা স্থাপন করে অবৈধ ভাবে ইটভাটার ব্যবসা করা হচ্ছে। ইটভাটার ৫০ থেকে ১শ’গজের মধ্যেই রয়েছে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর একটি ভালুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অপরটি ভালুকিয়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়। যেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। তার পাশেই রয়েছে সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ইটভাটার কারণে পরিবেশ দূষণ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকের ফসলের ক্ষতি, আশপাশের গাছ ও পাহাড় কেটে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে এ বিষয়ে আলাপকালে তারা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ইটভাটা পরিচালনা করা, দেশের কোন নীতিমালায় আছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। এক কথায় ওই প্রধান শিক্ষকদ্বয় এব্যাপারে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।

এদিকে, স্বাস্থ্যসেবা নিতে আশা ওলামং মারমা জানান, আমাদের পরিবেশ ও স্বাস্থের দু’টোরই ক্ষতি হচ্ছে, কে কার কথা শুনে, প্রশাসন এসব অনিয়ম দেখেনা। তবে এই বিষয়ে অনেক এলাকাবাসীর সাথে জানতে চাওয়া হলে, তাঁরা ভয়ে মুখ খুলেন নাই।

কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের কারিগর পাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ইটভাটাটি রেঞ্জের আওতাধীন বনাঞ্চলের ভিতরই করা হয়েছে। বন আইনের মধ্যে এভাবে ইটভাটা বসানোর কোন সুযোগ নেই। ইটভাটা নিয়ে কিছু বললে মালিকপক্ষ ওপর মহলের ভয় দেখায় বলে তিনি জানান।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন- ২০১৩ এ লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা পরিচালনা করলে এক বছরের দন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, আবাসিক-সংরক্ষিত-বাণিজ্যিক-বনভূমি-জলাভূমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করলে ১ বছর দন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়। জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহারে ৩ বছরের কারাদন্ড এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়।

এবিষয়ে রাইখালী ইউপি চেয়ারম্যান মংক্য মারমা জানান, এটা আমার ইউনিয়নের ভালুকিয়ায় স্থাপন করা হয়েছে। ইটভাটা পরিচালনা করতে হলে পরিবেশের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসকের অনুমিত বাধ্যতামুলক। তবে তারা কি ভাবে চালাচ্ছে আমি জানিনা।

ইটভাটার এক মালিক বন্টুর নিকট মোবাইলে পরিচয় দিয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন ঝামেলায় আছি। পরে আপনাকে ফোন করব, বলে কল কেটে দেয়।

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম মুনতাসির জাহান জানান, যেহেতু হাইকোর্টের অর্ডার আছে, তাই আমরা প্রশাসন দেখবো এই ইটভাটা অবৈধ কিনা, তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো।

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে পার্বত্য তিন জেলায় গড়ে ওঠা সব অবৈধ ইটভাটা সাত দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।