
জন্ম ১৯৬৮ সালে বিয়ে করেন,মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২০০০ সালে স্বামী তালাক দেন তাকে । তখন থেকে অনেক কষ্টের বিনিময় সন্তানদের মানুষ করেন এবং অন্যের দু:খের সময় তিনির পাশ্বে দাড়ানো চেষ্টা করেন । অদম্য সাহসী তোয়ার নেম বম সামনে এগিয়ে চলার থেমে থাকেনা।
হাই স্কুলের এসএসসি পর্যন্ত শেষ করে তবুও তোয়ার নেম বম একজন হত দরিদ্র । কিন্তু সমাজ উন্নয়ন ও নারী নির্যাতনের খবর পেলে মাত্র সে থেমে নেই তার গতি এগিয়ে গিয়ে তার সহযোগীতা দিতে থাকে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নিরন্ত কাজ করছেন। বাড়ীতে কাপড় বোনা ও জুম চাষ ছিল তার উপার্জনের এক মাত্র সম্বল । এক সময় কাপড় বুনতে দেখে এক ব্যবসায়ী তার কাছে কাপড় বুননের সুযোগ করে দেয় । সুযোগের সৎ ব্যবহার করে আয়ের পথ খুলে যায় তার ।
২০০৯-১০ সালে তার ছেলে চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অর্নাস পড়ার সুযোগ পায় । সে সুবাদে তিনি কাপড় বুননসহ চিন্বুক পর্যটন এলাকায় ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী ৫/৬ জনকে পাইকারী হারে কাপড় দিতে শুরু করেন । অনেক আয়ের সুযোগ পেলে তিনি নিজের ছেলে ও অন্যান্য ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার করার জন্য অভিবাবকদের ও সুপরমর্শ প্রদান এবং সহযোগীতা করে আসছে। কাপড় বুননের ফলে কিছু টাকা উপর্জন হয় তার । পরে তিনি উপার্জিত টাকা দিয়ে সমাজ উন্নয়ন মূলক কাজ করেন বিভিন্ন প্রজাতি গাছ লাগান এবং সংসার চালান । ২০১৭ সালে তার ছেলে মাষ্টার্স শেষ করে ইন্টারন্যাশনাল এনজিওতে শিক্ষানবীশ ইন্টারশিপ করে দুইজনের সংসার চালিয়ে আর অভাব বলে কিছু নেই তার পরিবারের ।
তোয়ার নেম বম সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পর আমাকে সমাজে কত কথা বলত মানুষ, আমাকে ও আমার ছেলেকে বাঁকা চোখে দেখত। ছেলের মা হিসেবে আমাকে উপহাস করতো কিন্তু আমার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ ডিগ্রী অর্জন করার পর আমাকে আগের মত সে বিড়ন্বনায় পড়তে হয় না বরং সম্মানের সহিত দেখে । স্বামী ছাড়া সমাজের উন্নয়নের বা নির্যাতীত নিপীড়িত নারীদের পক্ষে কাজ করে দরিদ্র্যের কাছে হার না মেনে স্বামী হারিয়েও এই নারী কাজ করে যাচ্ছেন নিরবধি । তারঁ প্রতি রইল আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা । তিনি দেশের যেন পাহাড়ের বাতিঘর ।


