পাহাড়ের উৎপাদিত ঝাড়ু ফুল রপ্তানী হচ্ছে বিদেশে

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ঝাড়ু ফুল দেশের গন্ডি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশেও রপ্তানী হচ্ছে। প্রাকৃতিক এ ঝাড়ু বিক্রি করে আয়-রোজগারের সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশের বহু পরিবারের। তবে বর্তমানে একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে ঝাড়ু বিক্রেতারা হতাশ হয়েছেন।

দেশজুড়ে রয়েছে কাপ্তাইয়ে পাহাড়ি ঝাড়ু ফুলের কদর। পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ওই ফুল ঝাড়ুর আবাদ করা হলে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। সাধারণত বাসা- বাড়িতে, শহরের বিল্ডিং আছে এমন অফিস-আদালতে ঘর ঝাড়ু দিতে এটি ব্যবহৃত হয়। এ ঝাড়ুগুলো দেখতে চমৎকার এবং ব্যবহারে দ্রুত ময়লা পরিষ্কার ও বহনে সুবিধা বেশি বলে এটি শহরের প্রত্যেক বাসায় না থাকলে নয়। এছাড়া ঝাড়ু ফুলের তৈরি ঝাড়ু নষ্ট হয় কম। তাই এটি সাশ্রয়ী। পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এসব ফুল ঝাড়ু কেটে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে আসে লোকজন। এরপর বাজার থেকে স্থানীয় গ্রামবাসী ব্যবহারের জন্য সেগুলো কিনে নিচ্ছেন।

অনেক পাইকারি ব্যবসায়ীরাও স্থানীয় বাজারগুলো থেকে ফুল ঝাড়ু কিনে নিচ্ছেন সরেজমিনে দেখা যায়, ইতিমধ্যে পাহাড় থেকে ঝাড়ু তৈরি করার জন্য ঝাড়ুফুল কাটা শুরু হয়েছে। গহীন পাহাড় থেকে এ ফুল সংগ্রহ করার আনন্দে মেতে উঠেছে ঝাড়ু ফুল সংগ্রহকারীরা। এ ফুল দিয়ে সুন্দর ও সহজভাবে তৈরি ব্যবহার যোগ্য ঝাড়ু দেশের বড় বড় শহরে বিক্রির জন্য মজুদ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাপ্তাইয়ে বড়ইছড়ি বাজার, কাপ্তাই জেড়িঘাট, চিৎমরম বাজার, রাইখালী মগ বাজার, রাইখালী কারিগর পাড়া বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি বাহারি ঝাড়ুফুল শুকাতে ও বাজার দিনে বিক্রি করতে দেখা যায়। এ কাজে কর্মরত গরিব খেটে খাওয়া মানুষগুলোর মহিলা-পুরুষ সবাই ফুল কাটতে ও শুকাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

গুণগত মানভেদে কাটা হয় ও আঁটি হিসেবে এসব ফুল ঝাড়ু বিক্রি করা হয়। তবে এগুলো কাটা এখন আর আগের মতো সহজলভ্য নয়। কয়েক বছর আগেও পাহাড়ি এলাকায় রাস্তার ধারে ফুল পাওয়া যেত। এখন অনেক ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ফুল ঝাড়ু কাটতে হয়। ফলে এখন দামও একটু বেশি। প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ফুল ঝাড়ু সংগ্রহ করা যায়। গ্রামের লোকজন ওই সময়েই সারা বছরের জন্য ফুল ঝাড়ু কিনে নেয়।

জানা যায়,অন্যান্য বছরের চেয়ে পাহাড়ি এলাকায় ফুল ঝাড়ুর উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিগত কয়েক বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে কিংবা বৈদেশিক রপ্তানি কমে এসেছে। বিনি জাতের ফুল সবচেয়ে ভাল। ফলে বিনি জাতের ফুলের চাহিদা ও মূল্য অনেকটা বেশি। তবে একশ্রেণির প্রভাবশালী কর্তৃক নির্বিচারে বন নিধনের ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় ফুল ঝাড়ুর বাণিজ্য। তাছাড়া নির্বিচারে পাহাড়ী বনজ সম্পদ নিধনের ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই ঝাড়ু ফুল। সব কিছুতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও কদর কমেনি ঝাড়ু ফুলের।

কাপ্তাইয়ের বাসিন্দা উখ্যাচিং মারমা জানান, গহীন পাহাড়ে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার অবদানে কাশফুলের মতো গাছে এসব ফুল গাছ দেখা যায় পাহাড়ের টিলা থেকে টিলায়। পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন মাসে এ গাছের ফুল আসে যাকে ঝাড়ু ফুল বলা হয়। গরিব লোক পাহাড়ে গিয়ে এ ফুল সংগ্রহ করে। এতে বন বিভাগ থেকে বাধা দেওয়া হয় না।

কাপ্তাইয়ে বিভিন্ন এলাকায় এসব ঝাড়ু ফুল বাড়ি বাড়ি নিয়ে যায় তনচংগ্যা ও মারমা নারীরা। ঝাড়ু ফুলের একটি স্টিক এক টাকা হারে ১০০ শত বিক্রি হয় ১ শত টাকা থেকে একশত ২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।