বাইশারী-দৌছড়ি ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ও দৌছড়ি ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নমিনেশন জমা দিয়েছেন স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের দৌছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ হাবীব উল্লাহ এবং বাইশারী ইউনিয়ন সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর।

গত রোববার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বাররা।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ২য় ধাপের ইউপি নির্বাচনে বাইশারী ও দৌছড়ি ইউনিয়নে আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্টিত নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আবেদন করেন, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর এবং দৌছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ হাবীব উল্লাহ। কিন্তু এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে দৌছড়ি ইউনিয়নে মনোনীত হন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইমরান, বাইশারী ইউনিয়নে মনোনীত হন জেলা আওয়ামীলীগ কার্যনির্বাহী সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আলম কোম্পানি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নমিনেশন ফরম জমা দেন দৌছড়ির বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ হাবীব উল্লাহ এবং বাইশারীর সাবেক মেম্বার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর।

উপজেলা আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা মুহাম্মদ ইমরান এবং মুহাম্মদ আলম কোম্পানি মনোনয়ন পাওয়ার পর আওয়ামীলীগের এই সিনিয়র দুই নেতা মেনে নেননি দলীয় সিদ্ধান্ত। ফলে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন আলহাজ্ব মুহাম্মদ হাবীব উল্লাহ ও মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর। হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। এ কারণেই এ দুই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন নেতা কর্মীরা।

পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ উঠেছে, স্বতন্ত্র ও সরকারি দলের প্রার্থী হয়ে নমিনেশন জমা দেওয়ার সময় জামাত-বিএনপি’র একাধিক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়েছিলেন এই বিদ্রোহী ও নৌকার প্রার্থীরা । যা নতুন করে সমালোচনায় ফেলেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর।

জানা যায়, জেলা আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতিসহ সদস্যরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ করে অধিকতর যাচাই-বাছাই করে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং একক প্রার্থীর তালিকা পাঠানো হয়েছে সেই প্রেক্ষিতে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন হারিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন হাবীব উল্লাহ ও জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর। তারা এই প্রতিবেদকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে কোনো ধরণের মন্তব্য করব না। তবে এই টুকু বলবো সারাদেশের ন্যায় আমরাও পাহাড়ী অঞ্চলে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করতে চাই। তাই আমরা এলাকার সর্বত্র জনগণের মনোনীত হিসেবে প্রার্থী হয়েছি।

এদিকে উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা হয়নি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাইশারীর নুরুল হাকিম, জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর ও দৌছড়ির হাবিব উল্লাহ।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ জানান, ২০ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২৬ অক্টোবর ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ শেষে ১১ নভেম্বার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।