রাঙামাটিতে কর্মশালা ভিত্তিক নাট্য প্রযোজনা কুয়াশা’য় মুগ্ধ দর্শক

পাহাড়ী জনপদের সম্প্রদায়ের মানুষের শ্রম সংগ্রাম ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে জীবন নদী একেঁবেঁকে বয়ে চলে। হঠাৎ কোন একদিন তাদের উপর নেমে আসে অলিক অভিশাপ। অভিশপ্ত হয় তাদের দুই সম্প্রদায়ের দুটি ছেলে মেয়ে। ডাইনির অভিশাপে মারা যায় দুটি তাজা প্রাণ। পুরো গ্রামবাসী ভয় পেয়ে নিজেদের গুটিয়ে ফেলে। তারা আর জুমে কাজ করতে যায় না, যায় না পাহাড়, জঙ্গল কেটে নিজেদের বসতি গড়তে। এভাবে চলে যায় অনেকদিন। কোন একরাতে তারা আবার সাহস ফিরে পায় সংগঠিত হয়। শপথ করে আবার জীবন সংগ্রামে নেমে পড়ার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তারাও ডাইনীদের অভিশাপে কঠোরভাবে অভিশপ্ত হয়। দুই দলে ভাগ হয়ে যায়। শুরু হয় নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ হানাহানি। সমস্ত রাগ ক্ষোভ গিয়ে পরে সেই দুটি ছেলে মেয়ের উপর।

অন্যদিকে রাতের আঁধারে নীল চাঁদের আলোয় সে ছেলে মেয়ে দুটির আত্মা ঘুরে বেড়ায়। সে আত্না দুটি ছিলো দৃশ্যমান। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে সে দুটি সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা পিছু নেয়। সে ছেলে মেয়ে দুটিকে যে করেই হোক চিরতরে তাদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়। পাশাপাশি দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হয় প্রচন্ড শত্রুতা এবং যুদ্ধ। তারা ধ্বংসে লিপ্ত হয় ঠিক তখনি সে ছেলে মেয়ে দুটি তাদের সামনে আসে। তাদেরকে বুঝায় নিজেদের মধ্যে হানাহানি না করে নিজেদের বিবেককে জাগ্রত করতে। তারা আরো বলে “আমরা তো মরে গেছি কিন্তু কোন ডাইনীর অভিশাপে নয়, আমরা ভয়ে মন থেকে মরে গিয়েছিলাম। তোমরা সে ভুল করো না। কারণ তোমাদের মনের মধ্যেই আছে ধ্বংসের ভয় আবার বেঁচে থাকার অফুরন্ত সম্ভাবনা। তাই ভয় দূর করো, মন খোলে বাঁচো “।

এই কাহিনীকে উপজীব্য করে আজ রবিবার সন্ধ্যায় ৬ টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হলো রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এর আয়োজনে কর্মশালা ভিত্তিক প্রযোজনা নাটক “কুয়াশা”। জাতীয় পর্যায়ের মেধাবী নাট্যকার আশিক সুমন এর রচনা ও নির্দেশনায় নাটকটির প্রযোজনা অধিকর্তা ছিলেন রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এর পরিচালক রুনেল চাকমা এবং সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন কালচারাল অফিসার শোভিত চাকমা।

মিলনায়তনে নাটক দেখতে আসা কাপ্তাই উপজেলা নাট্য বিভাগের প্রধান বিশিষ্ট অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক মোঃ আনিসুর রহমান এবং কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সম্পাদক মংসুইপ্রু মারমা তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে এই প্রতিবেদককে বলেন, এক কথায় কাহিনী নির্মাণ, সেট ডিজাইন এবং অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাবলিল অভিনয় শৈলী মুগ্ধ করেছে আমাকে। মিলনায়তনে আগত হলভর্তি দর্শকরাও এই নাটকের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পরে বিজ্ঞান্তর তালুকদার এর সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুইছাইন চৌধুরী, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান, রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী রুবায়েত আক্তার, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এর পরিচালক রুনেল চাকমা, কালচারাল অফিসার শোভিত চাকমা, কালচারাল ইনস্টিটিউট এর সংগীত শিক্ষক সুরেশ ত্রিপুরা ও কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন, সীমা ত্রিপুরা, এলি চাকমা, মেরি চাকমা, নীলা চাকমা, প্রিভেল চাকমা, কীর্তিনিশান চাকমা, লিপি আক্তার, দীঘি, জেসমি চাকমা, বাবলী চাকমা, বিটু চাকমা, নিগিরা ময় চাকমা, অভিনয় চাকমা, সুশান্ত চাকমা ইশা চাকমা, বেকি চাকমা, উক্রাচিং মারমা, প্রিয়তোষ চাকমা, অর্পণ চাকমা, ইন্দ্রিরা চাকমা ও রিপা চাকমা। নেপথ্যে মিউজিক ও লাইট ডিজাইন-আশিক সুমন এবং প্রপস এবং কস্টিউম-কুয়াশা টিম।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।