শান্তি ও মঙ্গল কামনায় রাঙ্গামাটিতে পালিত হলো প্রবারণা পূর্ণিমা

বিশ্বের শান্তি ও মঙ্গল কামনায় রাঙ্গামাটিতে পালিত হলো বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন প্রবারণা পূর্ণিমা বা আশ্বিনী পূর্ণিমা।

আজ শনিবার (৩১অক্টোবর) সকালে রাজবন বিহার প্রাঙ্গনে ধর্মীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে যথাযথ মর্যাদায় এ দিনটি পালিত হয়। এতে অংশ নেয়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো পুণ্যার্থী। এসময় সাধু সাধু ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো বিহার প্রাঙ্গন।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন,৬নং বালুখালী ইউপি চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমা। পরে পুণ্যার্থীরা বুদ্ধ পুজা, সীবলী পুজা, উপগুপ্ত বুদ্ধ পুজা, বনভান্তে পুজা,তাবতিংশ পুজা, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, হাজার বাতি দান, প্যাগোডা উদ্দ্যেশে টাকা দান,নানাবিধ দান ও উৎসর্গ করেন। এর আগে অতিথিরা বনভান্তের প্রতিচ্ছবিতে পুষ্পাঞ্জলী দিয়ে বরণ করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে নারী পুরুষ ভাগ করে প্রবারণা পরিচালনা ও বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় খীসা। অনুষ্ঠানে ধর্ম দেশনা দেন, রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ও বিহার অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ও কাটাছড়ি রাজবন ভাবনা কেন্দ্রর অধ্যক্ষ ইন্দ্র গুপ্ত মহাস্থবির।

দেশনাকালে বিশ্ব শান্তি মঙ্গল ও সুখ শান্তি কামনা করে প্রবারণা শেষে দানোত্তম কঠিন চীবর দানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ও ইন্দ্র গুপ্ত মহাস্থবির। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পুণ্যার্থীদের প্রবারণা সম্পর্কে ধর্ম দেশনায় বর্ণনা করা হয়।

এসময় রাখেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি নিরুপা দেওয়ান প্রমূখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, মধু চন্দ্র চাকমা।

উল্লেখ্য, প্রবারণা পূর্ণিমা বা আশ্বিনী পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। প্রবারণা দিনে সকল নারী-পুরুষ নির্বিশেষে উভয়ে ভিক্ষু সংঘের নিকট অতীতে ভুলের ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকেন। প্রবারণা হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুশাসনের অন্যতম এক ধর্মীয় উৎসব। যাকে আত্মঅন্বেষণ ও আত্মসমর্পনের তিথি বলা যায়। বৌদ্ধধর্মের রীতি অনুযায়ী প্রবারণা পূর্ণিমা থেকে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব পালন করবে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।