সিসি টিভির আওতায় আসছে নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার

বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাধারণ মানুষসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দমন ও অপরাধী শনাক্তের সুবিধার্থে নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে বাজারের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার পরিচালনা কমিটি।

মঙ্গলবার (২২ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টায় নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার পরিচালনা কমিটি কার্যালয়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) আওতাধীন কনট্রোল রুম শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি ও থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন।

এসময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াহিয়া মামুন, সাধারণ সম্পাদক ডাঃফরিদুল আলম,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী,সদর ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার মো : আরেফ উল্লাহ ছুট্টু, উপজেলা যুবলীগ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুহাম্মদ ইসলাম মেম্বার, মো,আবুল কাসেম সাওদাগর,আব্দুল গফুর সাওদাগর,মনন্ঞ্জুর আলম সাওদাগর প্রমূখ।

পুলিশ সূত্র জানায়, বাজার এলাকার বাজার পরিচালনা কমিটির সহায়তায় এবং বাস্তবায়নে বাজারের বিভিন্ন মার্কেট, অলিগলি ও তৎসংলগ্ন মূল সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মধ্যদিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি-চাকঢালা প্রধান সড়কের প্রবেশদ্বার, হাজী নবী মার্কেট, ধুংরী হেডম্যান পড়া মার্কেটসহ নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়াদি নিয়ে বাজার পরিচালনা কমিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশ বিভাগের আলোচনা হয়েছে বলে সত্যতা নিশ্চিত করে বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইয়াহিয়া খাঁন মামুন জানান, বাজার এলাকার অধিকাংশই এখন সিসি ক্যামেরার আওতায় চলে এসেছে। এভাবে একজনের দেখাদেখি বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ব্যবসা প্রতিষ্টানের মালিক উদ্যোগ নিলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে গোটা সদর উপজেলার শহরটি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণে চলে আসবে। এর ফলে অপরাধীরা অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হবে বলে বাজার পরিচালনা কমিটি সভাপতি ইয়াহিয়া খাঁন মামুন আশা করছেন। এরপরও কোথাও কোনও ঘটনা ঘটলে এসব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়তা করবে।

থানার অফিসার ইনচার্জের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা সাধ্যমতো সহায়তা ও বাস্তবায়ন করছেন। এতে করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার হচ্ছে। এছাড়াও কোনও অঘটন ঘটে গেলে তা শনাক্তে এসব ক্যামেরা পুলিশের তদন্ত কাজে সহায়তা করবে।

থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, পর্যায়ক্রমে জেলার সকল থানার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং বাজারগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলার আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অপরাধ রহস্য উদ্ঘাটনে এসব ক্যামেরা সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
‘বাজার ব্যবসায়ীদের সহায়তা অংশগ্রহণে এই কার্যক্রম সফলতা পাচ্ছে। পুলিশের তদন্ত কাজে সহায়তার পাশাপাশি পুরো বাজারবাসী এর সুফল পাবেন।’

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।