খাগড়াছড়িতে এক স্বর্ণাকারের ফাঁদে নিঃস্ব অর্ধশতাধিক পরিবার

খাগড়াছড়ি সদরে সঞ্জিব বণিক নামে এক স্বর্ণাকারের বিরুদ্ধে ফাঁদে ফেলে ঋণ গ্রহীতাদের নিঃস্ব করার অভিযোগ উঠেছে। এ স্বর্ণাকারের সাথে আর্থিক লেনদেন করে এ পর্যন্ত এ অন্তত ৫০ জনের বেশি মানুষ মামলার ফাঁদে আটকে গেছেন। বাংলাদেশে স্বর্ণ বন্ধক রাখার কোন নির্দিষ্ট আইন না থাকা এবং মানুষের বিপদকে পুঁজি করে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন খাগড়াছড়ি বাজারের এ স্বর্ণাকার ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন মহলে বিচার দিলেও প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। এমনই কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায় সঞ্জিব বনিকে আরও অনেক অপকর্মের কথা।

খাগড়াছড়ি সদরের গঞ্জপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনিকা রাণী দাশ বলেন, পারিবারিক প্রয়োজনে মা বাবার রেখে যাওয়া বসত ভিটার দলিল বন্ধক রেখে সঞ্জিব বনিকের কাছ থেকে এক লাখ টাকার ঋণ নেন দুই বোন। টাকা নেওয়ার সময় দলিলের সাথে একটি খালি ব্যাংক চেক রাখা হয়। ৯৫ হাজার টাকা পরিশোধের পর লেনদেন পুরোপুরি মিটিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব না হিসাব করতে গেলে সঞ্জিব ৭ লাখ টাকার চেক দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পায়নি। শেষ পর্যন্ত বাবা মায়ের শেষ স্মৃতিটুকু বিক্রি করে দিয়ে তার টাকা পরিশোধ করি। দলিল ফেরত দিলেও মামলা তুলে নেননি। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি নানা রকমের কু-প্রস্তাব দিচ্ছেন। আমার পরিবার সঞ্জিবের এ ফাঁদ থেকে বাঁচতে রাষ্ট্রের সহযোগিতা চায়।

খাগড়াছড়ি সদরের ঠাকুরছড়া এলাকার টিপু ত্রিপুরা বলেন, স্বর্ণ বন্ধক রেখে সঞ্জিব বনিকের দোকান থেকে দুই ধাপে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২ টি চেক রাখা হয়। সুদে আসলে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের পর ৬০ হাজার টাকা দিয়ে বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকার করে একপর্যায়ে দুই চেকের বিপরীতে ৪৭ লাখ থেকে দাবি করা হয়। তা দিতে না পারায় আদালতে মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন অফিসে বিচার সালিশে সে মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা নিচ্ছে না। উল্টো নানা ভাবে হুমতি ধমকি প্রদান করছে।

NewsDetails_03

আরেক ভুক্তভোগী আসমা বেগম বলেন, আর্থিক প্রয়োজনে ৬ ভরি স্বর্ণ দিয়ে টাকা নেন তিনি। সুদে আসলে টাকা পরিশোধের পরও আমার বাসা থেকে চুরি হওয়া চেক বইয়ের পাতা দিয়ে মামলা করে হয়রানি করছে।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, সঞ্জিব নিজের মনগড়া নিয়মে অধিক সুদে ঋণ প্রদান করে। তার সাথে কেউ একবার লেনদেনে জড়ালে সে আর রেহাই পায় না। তারা নির্যাতন ও লোভ থেকে নিজের আত্মীয় স্বজনও বাদ পড়েনি। তার বিষয়ে ব্যবসায়ী সমিতি সহ বিভিন্ন জায়গা বিচার দিলেও কোন সুরাহা মিলে না। টাকার কাছে তার কাছে যেন সবাই জিম্মি।

এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে সঞ্জিব বনিক বলেন, তিনি ব্যবসায়িক কারণে এ সব লেনদেন করেছেন। কাউকে জোর করে টাকা দেননি। এখন টাকা আদায় করতে গিয়ে নিজে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অভিযোগ করে বিস্তারিত জানতে হলে তার আইনজীবীর সাথে কথা বলতে বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দাদন ও সুদি কারবার অবৈধ হলেও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় এ কারবার চলছে। উচ্চ হারের সুদ কারবারের লেনদেনে জড়িয়ে নিঃস্ব অনেক পরিবার।

আরও পড়ুন