খাগড়াছড়ির চার উপজেলায় এলএসটিডি প্রকল্পের উদ্যোগে আমন মৌসুমের কৃষি উপকরণ বিতরণ

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-র “স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন” (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি জেলার চারটি উপজেলার কৃষকদের মাঝে আমন মৌসুমের কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায়, ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, খাগড়াছড়ির উদ্যোগে।

মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলার মোট ১৮ জন কৃষককে ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাতের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উপকরণ প্রদান করা হয়।

প্রতিটি কৃষককে এক একর জমিতে আমন চাষের উপযোগী প্রয়োজনীয় উপকরণ—ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম ও জিংক সালফেট সার, পাশাপাশি ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক তুলে দেওয়া হয়।

NewsDetails_03

এর আগেও একই প্রকল্পের আওতায় ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, খাগড়াছড়ি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বন্যা-সহনশীল, উচ্চফলনশীল ও জনপ্রিয় আমন জাতের বীজ বিতরণ করেছিল।

উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, খাগড়াছড়ির প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সিরাজুল ইসলাম কৃষকদের উদ্দেশে সুষম সার ব্যবস্থাপনা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং রোগ-পোকামাকড় দমন কৌশল সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

ব্রি সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলে আধুনিক ধানের জাত ও প্রযুক্তির প্রসারে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ৭৫ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ এবং শতাধিক কৃষককে মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ব্রি ও এলএসটিডি প্রকল্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, এমন সহায়তা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলে আধুনিক ধান চাষের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং অধিকসংখ্যক কৃষক উন্নত জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন।

আরও পড়ুন