খাগড়াছড়িতে প্রয়াস একাডেমির সংবর্ধনা ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ও গুচ্ছভুক্ত বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ২য় ধাপে সংবর্ধনা এবং ২০২৫-২৬ সেশনের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং-এ ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে খাগড়াছড়ির অন্যতম কোচিং প্রতিষ্ঠান ‘প্রয়াস একাডেমি’।

আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক প্রাপ্ত ও খাগড়াপুর জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন— আজকের বিশ্ব প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে শুধু সম্পদ নয়, জ্ঞানই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া কোনো জাতি টিকে থাকতে পারবে না। তাই শিক্ষা গ্রহণ, গবেষণা, দক্ষতা অর্জন এবং জ্ঞানকে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই আমরা ২১ শতকের শিল্পবিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারব।

তিনি আরো বলেন- “একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। সৎ সাহস, সময় ব্যবস্থাপনা এবং মনোবল ধরে রাখার মাধ্যমেই সাফল্য অর্জন সম্ভব।”

প্রয়াস একাডেমির পরিচালক উত্তম কুমার ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের (খন্ড কালীন) শিক্ষক সোনালী চাকমা। তিনি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে বলেন, “বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। আমি যদি দূর্গম এলাকা থেকে কষ্ট করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করতে পারি, তাহলে তোমরাও অবশ্যই পারবে। জীবনের বাস্তবতা মেনে এগোতে হবে। মনোবল ও আত্মশক্তিকে ধরে রাখলে সাফল্য নিশ্চিত। ”

NewsDetails_03

বিশেষ অতিথির বক্তব্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (পিপি) খাগড়াছড়ি জেলার সম্মানিত আইনজীবী এড. সৃজনী ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের সময়ে এভাবে কোচিং করার সুযোগ ছিল না। আমি দুর্গম এলাকার একজন ছাত্রী হয়েও বহু কষ্ট, ত্যাগ ও তিতিক্ষা সহ্য করে অপেক্ষার প্রহর পার করে আজ এডভোকেট হতে পেরেছি। তোমরাও চেষ্টা করলে অবশ্যই সফল হতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি আমাদের সমাজে বাল্যবিবাহ একটি বড় সমস্যা। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।”

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াস একাডেমির সহকারী পরিচালক ও নার্সিং মেন্টর স্নেহময় ত্রিপুরা, বিবিএ মেন্টর জেমস ত্রিপুরা, সমাজকর্মী সুরেশ বরণ ত্রিপুরা এবং ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম, খাগড়াছড়ি সদর শাখার সভাপতি আকাশ ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ২০২৫-২৬ সেশনের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং-এ ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার্থীদের ফুল বরণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক উত্তম কুমার ত্রিপুরা জানান, ২০১৯ সালে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রয়াস একাডেমি। ওই বছরেই ১১ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরই ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও নার্সিংয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা ও একাডেমির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ২০২৫ সালের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

আরও পড়ুন