গর্জনিয়ায় ঋণ আর লোকসানে নিভে গেল তামাক চাষির জীবন

লাভের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সংসারের অভাব ঘোচাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে করেছিলেন তামাক চাষ। কিন্তু সেই তামাকই যেন হয়ে উঠল তার জীবনের কাল। চাষাবাদে লোকসান, মাথার ওপর ঋণের চাপ আর পাওনাদারদের তাগাদায় দিশেহারা হয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত বিষপান করেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের এক তামাক চাষি।

দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শুক্রবার (১৫ মে) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।

মৃত ফকির আহমেদ (৫৫) রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টাইম বাজার মিয়াজির পাড়ার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে কৃষিকাজের পাশাপাশি তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ফকির আহমেদ। চলতি মৌসুমে বেশি লাভের আশায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাপক পরিসরে তামাক চাষ করেন তিনি। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন ও বাজারদর না পাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন। এতে ঋণের বোঝা আরও বাড়তে থাকে। পাওনাদারদের চাপ এবং সামাজিক ভাবে অপমানবোধে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়েছিল তামাক চাষ করার জন্য। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, খরচের টাকাও তুলতে পারেনি। পরে পাওনাদাররা টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে বাজারে বের হতেও লজ্জা পেত। সেই কষ্ট থেকেই প্রায় ১০-১২ দিন আগে বিষ পান করে।”

NewsDetails_03

তিনি আরও বলেন, “প্রথমে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তার মৃত্যু হয়।”

ফকির আহমেদের বড় ছেলে মো. মান্নান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবা সংসারের ভালো চেয়েই ঋণ করে চাষ করেছিলেন। কিন্তু লোকসানের পর থেকে তিনি খুব চিন্তায় ছিলেন। আমরা বুঝতে পারিনি তিনি এতটা ভেঙে পড়েছেন।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহারান চৌধুরী মারুফ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঋণের চাপ ও লোকসানের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে শুনেছি। কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা ও সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।”

গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি ঋণের চাপে ও লজ্জায় তিনি বিষ পান করেছিলেন। প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছুটা সুস্থ হচ্ছিলেন বলেও শুনেছিলাম। কিন্তু শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, তামাক চাষে কৃষকদের ঝুঁকি, ঋণের বোঝা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন