রোগীর সেবায় আন্তরিকতা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আর মানবিকতায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাঙামাটির কাপ্তাই ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এ. কে. এম. কামরুল হাসান। সীমিত চিকিৎসাসেবার মধ্যেও নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়ানোয় তিনি কাপ্তাইবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন।
১৯৯২ সালে কাপ্তাই ইউনিয়নের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয় ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর সংকটে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম। সপ্তাহের সাত দিন চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় উপজেলা সদর হাসপাতাল, লিচুবাগান কিংবা চট্টগ্রামে।
এমন পরিস্থিতিতে কাপ্তাইবাসীর জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছেন ডা. এ. কে. এম. কামরুল হাসান। শহরে থেকে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকলেও তিনি কাপ্তাইয়ের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

শুধু চিকিৎসা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নন তিনি। অসহায় ও দুস্থ রোগীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় চিকিৎসা কিংবা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। সম্প্রতি এক পাহাড়ি শিশুর হৃদ্যন্ত্রের ছিদ্রের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতে সহযোগিতা করেন তিনি। এ ছাড়া ছানি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও অনেকের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিনি নিয়মিত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেন। পাশাপাশি কাপ্তাই উপজেলা সদর হাসপাতালে রাতের দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক উদ্যোগে সন্তুষ্ট স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে একজন চিকিৎসকের আন্তরিকতায় কত দিন চলবে ২৫ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা?
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২৫ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে শুধু একজন মানবিক চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে থাকা সম্ভব নয়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল।
তাই কাপ্তাই ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসন এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, ডা. কামরুল হাসানের মতো মানবিক চিকিৎসকের পাশে প্রয়োজনীয় জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে কাপ্তাইবাসী আরও উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।



