টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটি ঝুঁকিতে, পাহাড় ধসে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে রাঙামাটি জেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এরই মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড়ধসে লক্ষ্মী বিলাস চাকমা (৬২) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার পশ্চিম নাইল্যাঘোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি মৃত ধরনাচাষ্য চাকমার ছেলে। একই দিনে রাঙামাটি পৌরসভার শিমুলতলী এলাকায়ও একটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অব্যাহত বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউট সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে চলছে মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম।

NewsDetails_03

জেলায় সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় মোট ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি শহরে রয়েছে ১১টি পূর্বনির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্র। ইতোমধ্যে লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে ২১টি পরিবারের ৭০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য জরুরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী সদর উপজেলার শিমুলতলী পাহাড়ের ঢাল, রূপনগর এলাকার পাহাড়ের ঢাল, লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, পুলিশ, রেড ক্রিসেন্টের সদস্য এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার থেকেই জেলা প্রশাসন ও রাঙামাটি পৌরসভা শহরের ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা চিহ্নিত করে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং ও প্রচার চালিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন