থানচির সব পর্যটকরা নিরাপদে, রুমায় আটকা পড়েছে অর্ধ শতাধিক
পাহাড় ধস ও নদীতে পানি বৃদ্ধি
টানা প্রবল বর্ষনের কারনে বান্দরবানের পাহাড় ধস ও বন্যার আশংখা দেখা দিয়েছে। জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারনে থানচি উপজেলার নাফাখুম, রেমাক্রিতে আটকে পড়া পর্যটকরা নিরাপদে সদরে ফিরলেও ও রুমার উপজেলার কেউক্রাডংয়ে অর্ধ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে জেলার সাত উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।
সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, বান্দরবানের সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া, কসাইপাড়সহ সাত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক হাজারের পরিবারের অপরিকল্পিত বসবাস রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় পরিবারগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে জেলা শহরে মাইকিং করেছে প্রশাসন।
টানা বৃষ্টি ও সাঙ্গু নদীতে পানি বৃদ্ধির কারনে গত সোমবার রুমায় অর্ধ শতাধিক ও থানচির নাফাকুমে অবস্থানরত ৬৯ জন এবং জিন্না পাড়ায় ৩জন গাইডসহ ২১ জন পর্যটকসহ অনিবন্ধিত পর্যটক তাদের গন্তব্যে পৌছাতে না পারলেও তাদের ফেরাতে তৎপর হয়ে উঠে প্রশাসন।
থানচির ট্যুারিষ্ট গাইড মামুনর রশিদ বলেন, থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে একটি গাইড প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার লাইফ জ্যাকেট ও ট্রলার নিয়ে গিয়ে রেমাক্রি ও থানচিতে আটকে পড়া সব পর্যটককে থানচি সদরে নিয়ে আসে।
এদিকে থানচি উপজেলায় ভ্রমনে যাওয়া বিভিন্ন হোটেল ও কটেজে আটকা পড়া পর্যটকদের অর্থাভাব দেখা দেওয়ার কারনে স্থানীয় কটেজ মালিকরা পর্যটকদের কাছ থেকে ভাড়া না নেওয়া ও খাবারের জন্য অর্ধেক বিল রাখছে বলে জানান, শীলগিরি রিসোর্টের মালিক মং নু মার্মা।

মঙ্গলবার জেলার আলীকদম-লামা সড়কের পানি কমে যাওয়ার কারনে লামা -আলীকদমের সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। অন্যদিকে আলীকদমের পোয়ামুহুরী খাল ও লামার মাতামুহুরী নদীতে পানি কমছে বলে জানান স্থানীয়রা, এর ফলে বৃষ্টি অব্যাহত না থাকলে দুই উপজেলার নিন্মাঞ্চল থেকে পানি নেমে যাবেএ থানচিতে নৌ যোগাযোগ সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে।
জেলার বিশেষ করে রুমা, থানচি, লামা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেলেও হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
রুমার স্থানীয় ট্যুারিষ্ট গাইড রুকন উদ্দিন বলেন, বগালেক থেকে কেউক্রাডং যাওয়ার পথে পেঁপে বাগান এলাকায় বিশাল পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারনে অনেক পর্যটক আটকা পড়েছে।
সোমবার রাত থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। তবে দুপুর ৩টার দিকে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত বান্দরবানের ৭টি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়তের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছে, পাহাড় ধস ও প্রাণহানি ঠেকাতে ৭টি উপজেলায় সতর্ক করতে মাইকিং এর পাশাপাশি ১২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে, চিকিৎসা সেবা দিতে ৮ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা।



