রামগড়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ত্রাণের চাউল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মানবিক ত্রাণ কার্যের আওতায় বরাদ্দকৃত চাল না দিয়ে নগদ টাকা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও।

জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, অনাথ আশ্রম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য জেলার ৯ উপজেলা ও ৩ পৌরসভায় মোট ৯৬ মে.টন চাল উপ-বরাদ্দ দেন জেলা প্রশাসক। এর মধ্যে রামগড় উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতিটিতে ১ মে.টন করে মোট ২৭ মে.টন চাল বরাদ্দ করা হয়। ১৫ জুন ইউএনও’র অনুকূলে এই বরাদ্দপত্র ইস্যু হয়।
কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, বরাদ্দের চাল না দিয়ে পিআইও প্রতিষ্ঠান গুলোকে চাউলের বাজার মুল্যের অর্ধেকেরও কম নগদ টাকা দিয়েছেন।

১২টি মসজিদ ও নূরাণী মাদ্রাসাকে ৯ হাজার টাকা করে ১০টি মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারকে ৭ হাজার টাকা করে একটি মাদ্রাসাকে ২০ হাজার টাকা।সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকল্পের চাউল ছাড়া নগদ টাকা দেওয়া সরকারি কোন নিয়মের মধ্যে পড়ে না।

NewsDetails_03

রামগড় পৌরসভার তালিমুল কুরআন নূরাণী মাদ্রাসার সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতি টন চাউলের বাজার মূল্য বত্রিশ হাজার টাকা হলেও “আমার মাদ্রাসার নামে ১ মে.টন চাল বরাদ্দ হলেও পিআইও মাদ্রাসার এক শিক্ষককে ডেকে ৯ হাজার টাকা দিয়েছেন।”

একই অভিযোগ করেন বালুখালি বাহারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার সভাপতি ওসমান গণি, বলিটিলা তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক এবং সোনাইআগা কালী মন্দির কমিটির সভাপতি ধনঞ্জয় ত্রিপুরা।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এএসএম করিম। তিনি বলেন, “যার নামে বরাদ্দপত্র ইস্যু করা হয়, তিনি ছাড়া অন্য কারও পক্ষে খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করা সম্ভব নয়।”

রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, “মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন