বান্দরবানে সদর হাসপাতালে ওষুধ, কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতিসহ সরঞ্জাম সরবরাহের টেন্ডারে নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। টেন্ডারে শুভঙ্করের ফাঁকি, সঠিক সময়ে মালামাল সরবরাহ না করা, নিম্মমানের ওষুধ ও মালামাল বুঝে নেয়া এবং সকল মালামাল পাওয়ায় আগেই চেক স্বাক্ষরের অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন ও ক্রয় কমিটির ৫ সদস্যর বিরুদ্ধে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠার পরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের একটি তদন্ত টিম।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬আর্থিক সালে বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য এমএসআর যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরণের দুনীর্তির অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে জানা যায়, বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ওষুধ এবং বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে টেন্ডার আহবান করা হয়। ৩ কোটি ৯২ লক্ষ টাকার এই টেন্ডারে মালামাল সরবরাহের জন্য কার্যাদেশ পায় এমএসএম বাংলাদেশ, এমএসএম হেলথ কেয়ার ও আলমগীর এন্ড ব্রাদাস নামে ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
এদিকে ১০জুন কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৭দিনের মধ্যে টেন্ডারের সকল মালামাল অফিসে সার্ভে কমিটির কাছে বুজিয়ে দেওয়ায় নির্দেশনা থাকলেও সঠিক সময়ে বিভিন্ন ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এই অনিয়মের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী ক্রয়ে সার্ভে কমিটির ৫ সদস্যও সকল মালামাল বুঝে পাওয়ায় আগে যাচাই বাচাই না করে মালামাল বুঝিয়া পাইলাম বলে স্বাক্ষর করে টেন্ডারের অর্থ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পরে।

তবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোন দুনীর্তি হয়নি বলে দাবি করে ইতিমধ্যে ৯০-৯৫ শতাংশ মালামাল স্টোরে ঢুকে গেছে বলে জানান বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা:মোহাম্মদ শাহীন হোসেন চৌধুরী।
সিভিল সার্জন জানান, বান্দরবান সদর হাসপাতালের এমএসআর যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী টেন্ডারের মাধ্যমে ক্রয়ের জন্য ও সেটি সার্ভে করার জন্য ২টি কমিটি রয়েছে তারা বিস্তারিত জানে। তিনি আরো জানান, যারা টেন্ডারে কাজ পায়নি তাদের অনেকেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তবে টেন্ডারের মালামাল ধীরে ধীরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করছে বলে জানান, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও সার্ভে কমিটির সদস্য ডা: অতনু চৌধুরী।
এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ মালামাল বুঝে না পেলেও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মালামাল বুঝিয়া পাইলাম বলে সার্ভে কমিটির প্রত্যায়ন পত্রে স্বাক্ষর করেছে বলে জানান সদর হাসপাতালের স্টোর কিপার শিমিয়ন ত্রিপুরা।
স্টোর কিপার শিমিয়ন ত্রিপুরা জানান, সিভিল সার্জন আমাকে স্বাক্ষর করতে বলেছে, তাই আমি সকল মালামাল বুঝে পাওয়ায় আগেই জুন ক্লোজিং করতে গিয়ে সকল মালামাল বুঝে পেয়েছি বলে স্বাক্ষর দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ যদি আমাকে নির্দেশ দেয় তখন আমি নিরুপায়।



