পাহাড়ে বর্ষবরণে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসু র্যালী
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৬ কে স্বাগতম ও পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী গরাইয়া নৃত্য আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদ রামগর উপজেলা শাখা। ত্রিপুরা সংসদের আয়োজনে আজ (শনিবার ১১ এপ্রিল) সকালে রামগড় লেক পাড়ের বিজয় ভাস্কর্য প্রাঙ্গনে এ র্যালীর উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএপির নেতৃবৃন্দ।
পরে হ বৈসু র্যালীটি বের হয়ে রামগড় পৌর শহরের প্রধান সড়ক ধরে মাস্টার পাড়ার সিনেমা হল ঘুরে বিজয় ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।শোভাযাত্রায় রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম,রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ জসীম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ বাহার উদ্দিন ,উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাফায়েত মোর্শেদ ভূইয়াসহ রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ, ত্রিপুরা কল্যান সংসদ,ত্রিপুরা স্টেুডেন্ট ফোরামের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

দেখা যায়, নিজ জাতির বর্ষবরণের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে শিশু কিশোর, যুবক যুবতী, বয়স্ক নারী পুরুষ নিজেদের পোষাক পরে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন। কুশল বিনিময়, নেচে গেয়ে নিজের সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন। মেতে উঠেন গল্প আড্ডায়।
র্যালি শেষে গড়াই নৃত্য ,বোতল নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতিও জানান দেন।ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রামগড় আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি হরি সাধন বৈষ্ণব জানান, তিনদিন ব্যাপী বৈসু উৎসব পালন করে ত্রিপুরা জাতি। চৈত্রের শেষ দুদিন এবং বৈশাখের প্রথমদিন। প্রথম দিনকে বলা হয় হরি বৈসু, দ্বিতীয় দিনকে বলা হয় বৈসুমা এবং তৃতীয় দিনকে বলা হয় বিসি কাতাল। এ উৎসবের প্রধান আকর্ষন হচ্চে গরাইয়া নৃত্য ।পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে গরাইয়া দল ত্রিপরার সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য অংশগুলো পালাক্রমে গরাইয়া নাচের তালে তালে তুলে ধরেন।
এসময় স্থানীয়রা নানান সাজে উৎসবে মেতে উঠেন।পাহাড়ের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় বিরাজ করে সম্প্রীতি ও উৎসবের আমেজ। উল্লেখ্য যে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সকল সম্প্রদায় নিজ নিজ সংস্কৃতির মাধ্যমে বর্ষবরন করে থাকে।



