বান্দরবান পৌরসভার নিরবতায় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে টমটমের (ইজিবাইক) ভাড়া। চালকের ইচ্ছে অনুযায়ী ভাড়া দাবির কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বান্দরবান পৌর এলাকায় অনুমোদিত বালাঘাটা, কালাঘাটা, ক্যাচিংঘাটা, বনরুপা, হাফেজঘোনাসহ ৬ টি রুটে প্রায় ২৮০ টি টমটম (ইজিবাইক) রয়েছে। এইসব টমটম গুলোতে দৈনিক কয়েক হাজার যাত্রী চলাচল করে থাকেন। বিশেষ করে ব্যাটারি চালিত এসব টমটমের স্থান ভেদে নির্ধারিত ভাড়া না থাকায় দূর্যোগ বা সুযোগ পেলেই ইচ্ছে অনুযায়ী ভাড়া আদায় করে থাকেন যাত্রীদের থেকে। পক্ষান্তরে টমটম মালিকরা গত এক-দুই বছর আগেও প্রতি টমটম দৈনিক ৭০০-৮০০ টাকা চালকদের থেকে ভাড়া আদায় করলেও বর্তমানে গাড়িতে শুনো ব্যাটারি স্থাপনের নামে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত গাড়ি ভাড়া আদায় করায় চালকরাও তার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। বান্দরবান পৌরসভার লাইসেন্স প্রাপ্ত এসব টমটম গুলোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি অতি প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক যাত্রী বলেন, আগে বান্দরবান বাজার থেকে ক্যাচিংঘাটা টমটমের রিজার্ভ ভাড়া ৫০ টাকা ছিল বর্তমানে ৬০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। ক্যাচিংঘাটা থেকে বাসস্টেশন ৮০ টাকা নেয়া হলেও বর্তমানে ১০০-১২০ টাকা দাবি করা হয়। ৩ নাম্বার থানচি স্টেশন বাজার থেকে কম দুরত্তের হলেও ভাড়া দাবি করা হয় ১০০-১৫০ টাকা। পৌর সভার ভাড়ার তালিকা দেখাতে বলা হলে নির্দ্দিষ্ট কোনপ্রকার তালিকা নেই বলে জানান চালকরা। সকল চালকদের সমন্বিত ইচ্ছায় সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করা হচ্ছে। এনিয়ে প্রশাসনের নিরবতাই দ্বায়ী বলে জানান তিনি।

বান্দরবান-ক্যাচিংঘাটা সড়কের কয়েকজন টমটম চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর টমটমের লাইসেন্স রিনিউ করার সময় পৌরসভা থেকে নানা কথা বলা হলেও ভাড়ার তালিকার বিষয়ে কোন প্রকার নির্দ্দেষনা দেয়া হয় নি অদ্যাবদি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্য, গাড়ি প্রতি মালিকের ভাড়াসহ আনুষাঙ্গীক মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে আগের তুলনায় কিছুটা ভাড়া বাড়তি নেয়া হচ্ছে।
ক্যাচিংঘাটা লাইনের টমটম চালক বসু বলেন, ক্যাচিংঘাটা থেকে স্টেশনের ভাড়া আগে থেকেই রিজার্ভ ৫০ টাকা ছিল। এখনও ৫০-৬০ টাকা নেয়া হয়। তবে ক্যাচিংঘাটা থেকে বাসস্টেশন ১০০ টাকা,৩ নম্বর থানচি স্টেশন ১০০,হাফেজ ঘোনা পর্যন্তও ১০০ টাকা ভাড়া নেয় সকলেই। স্টেশনের বাইরে এই এলাকা গুলোতে দুরত্ব হিসেবে নয় এই ভাড়াই নেয় সকলেই।
বান্দরবান পৌর প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক বলেন, আগের একটি তালিকা রয়েছে, তবুও বিষয়টি নিয়ে আগামী রবিবার আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।


