রাঙামাটিতে গুলিতে ইউপিডিএফ নেতা নিহত, আহত দুই নারী

রাঙামাটির কুতুকছড়ি এলাকায় সশস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সঙ্গে যুক্ত এক নেতা। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তার দুই বোন।

আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোরের দিকে কুতুকছড়ি উপরপাড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ধর্মসিং চাকমা, যিনি ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ধনঞ্জয় চাকমার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, ভোরে একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তি তার বাড়ির সামনে এসে তাকে বাইরে ডেকে নেয়। পরে তিনি সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

NewsDetails_03

ঘটনার সময় নির্বিচারে গুলিবর্ষণে তার দুই বোন—ভাগ্যসোনা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমা আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তাদের হাতে গুলি লেগেছিল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা বাড়ি ফিরে গেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত তদন্তের কাজ শুরু করা হবে। রাঙামাটি কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিমউদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই পুলিশ রওনা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।

এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, বারবার এমন সহিংসতা পাহাড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন