রুমায় সরকারি জমি ও প্রাকৃতিক ঝর্ণা অবৈধ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ !
নিরব প্রশাসন
বান্দরবানের রুমা সদর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জমি দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে রাজ মিস্ত্রী মোহাম্মদ মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। কৃষি কর্পোরেশন জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করে বসবাসের অভিযোগও রয়েছে- তার বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজ মিস্ত্রী মনির হোসেন যে বাড়িতে বসবাস করেন সেটি কৃষি কর্পোরেশনের জমি। তিনি এর মধ্যে প্রাকৃতিক ঝর্ণার এপার ওপার আরসিসি পিলার বসিয়ে স্থাপনা নির্মাণ কাজ করছে। এর ফলে সরকারি ও মালিকানা জমি প্রতিরক্ষা প্রাচীর (ওয়াল) ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পানি প্রবাহের পথ পরিবর্তন করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় স্থানীয়দের বসতবাড়ি ও মাটি ধসের সাথে ভেঙ্গে যাবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের ঝড় উঠেছে। এমন অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জমি ও সরকারি সম্পত্তি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী ও এলাকাবাসী।
এ নিয়ে আবদুল মামুন মিয়া (৬৭) নামের এক ব্যক্তি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের টেকসই রক্ষায় সরকার কর্তৃক ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু একজন ব্যক্তি (মনির হোসেন) সে দেয়াল ভেঙে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করায় পানি প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে তার বসত বাড়ি ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটিও মাটি ভেঙ্গে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজমিস্ত্রি মোহাম্মদ মনির হোসেন পাহাড়বার্তা’কে বলেন- ক্রয়কৃত চার শতক জমিতে ঘর নির্মাণ করছেন। সরকারি জমি ও প্রাকৃতিক ঝর্ণা এপার ওপার দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ, এমন প্রশ্ন করায় কাজে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে মুঠোফোনে কল কেটে দেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থাপনা নির্মাণের আগে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নকশা বা ডিজাইনের অনুমোদন নেননি মনির হোসেন। অথচ কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই যথেচ্ছভাবে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ঘরের পাশে সরকারি অর্থায়নে স্থাপিত প্রায় ৪ লাখ টাকায় একটি গভীর নলকূপও স্থাপন করে নিয়েছেন বলে ড্রাইভার মামুন জানিয়েছেন।
এ প্রতিবেদক সরেজমিনে দেখেন, ঝিরির এপার-ওপার ১৮টি আরসিসি পিলারে নির্মাণ বসানো হয়েছে। এর ওপর লোহার বিম বসিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এর নিচ দিয়ে ঝর্ণার পানি প্রবাহিত হলেও নির্মীয়মান স্থাপনার কারণে পানির প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
গাড়ি চালক মোঃ মামুন (৩৭) পাহাড়বার্তা’কে বলেন, রাজমিস্ত্রি মনির হোসেন প্রভাব খাটিয়ে ঝর্ণার উপর ঘর নির্মাণ করছেন। মামুন আঙ্গুল দেখিয়ে বলেছেন, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই ছড়ার এপারে মালিকানা তাদের বসতভিটা জমি এবং ওপারে সরকারি জমি। ঝর্ণা বা ছড়ার এপার ওপার আরসিসি পিলার বসিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করার কারণে সরকারি টাকায় মাটির ভাঙ্গন রোধে নির্মিত রিটার্নিং ওয়ালটি অতিরিক্ত চাপে যেকোনো সময় ভেঙ্গে যাবে। এ প্রতিরক্ষা দেয়ালর্টি ভেঙ্গে গেলে তাদের ঘরবাড়িও ভেঙ্গে মাটি ভাঙ্গনের সাথে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেন মামুন ড্রাইভার।
এ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিতে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আদনান চৌধুরী বলেন, যেখানে ঘর নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগটি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



