কৃষকদের ভাগ্য বদলাতে অত্যাধুনিক টিস্যুকালচার ল্যাব
সারাদেশে ৫টি ল্যাবের মধ্যে ১টি বান্দরবানে
পাহাড়ের বুকে সবুজ আচ্ছাদনে ঘেরা মনোরম পরিবেশে বান্দরবানের বালাঘাটায় নির্মিত হচ্ছে বিশ্বমানের টিস্যুকালচার ল্যাব। ল্যাবটির নির্মান শেষে কৃষি গবেষণা শুরু হলে রোগমুক্ত চারায় বদলে যাবে পাহাড়ের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে সারা দেশে ৫টি ল্যাবের মধ্যে একটি ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় নির্মাণাধীন টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর এটির পূর্ণাঙ্গ রুপ পেলে কৃষকরা পাবে সাশ্রয়ী দামে উন্নত জাতের ফল-ফুলের চারা। আর এসব চারায় একসময় তিন পার্বত্য জেলার পাশাপাশি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কৃষকরাও উপকৃত হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, ল্যাব চালু হলে ফল-ফুলের জীবাণুমুক্ত বিভিন্ন জাতের চারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হবে। এতে ফলন ২৫-৩০ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি রোগ-বালাইয়ের ক্ষতি কমবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য স্থাপনার ল্যাব ভবন, হার্ডেনিং চেম্বার, নার্সারি শেড ও প্রশিক্ষণ কক্ষের মূল স্ট্রাকচারের কাজ শেষ। এখন চলছে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ।
শহরের বালাঘাটার কৃষক থোয়াইনু অং মারমা বলেন, আমরা পাহাড়ে বাগান করি, বিভিন্ন রোগে অর্ধেক গাছ মরে যায়, এই ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হলে আমরা কম দামে রোগমুক্ত চারা পাব।
বান্দরবানের চাষি তৈয়ব চৌধুরী বলেন, তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে একমাত্র বান্দরবানে এই ল্যাব হচ্ছে, আশাকরি টিস্যুকালচার ল্যাবের মাধ্যমে পাহাড়ের কৃষি ও কৃষকরা এগিয়ে যাবে।

ডলুপাড়ার নারী কৃষক মাথুই মার্মা বলেন, ল্যাবে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিলে চারা উৎপাদনের পাশাপাশি বাগান করে আমরাও বাড়তি আয় করতে পারবো, ফলে অর্থনৈতিক ভাবে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।
প্রকল্পের ঠিকাদার মোজাফফর হোসেন বলেন, টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজটি ১৮ মাসের মধ্যে কার্যসম্পাদনের চুক্তি রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে শতভাগ কাজ শেষ করে হস্তান্তর করা হবে।
এই বিষয়ে বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক লিটন দেবনাথ বলেন, এই ল্যাব পাহাড়ের কৃষিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। টিস্যু ব্যবহার করে ল্যাবে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া মুক্ত চারা তৈরি হবে, যা রফতানিযোগ্য। খুব অল্প সময়ে কম খরচে প্রচুর পরিমাণ ফল-ফুলের চারা পাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ, যন্ত্রপাতি কেনার কাজ শুরু হবে, আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে ল্যাবের কার্যক্রম চালু হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, তদানিন্তন ইপিএডিসি কর্তৃক ১৯৬৯ সালে এই খামারের গোড়াপত্তন হয়। পরে এই খামারের ব্যবস্থাপনা উদ্যান উন্নয়ন বোর্ডের উপর ন্যাস্ত হয়। প্রশাসনিক পরিবর্তৃনের ফলে খামারটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খাদ্য শস্য উইং এর উদ্যান বেস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৯১ সালের ১লা জুলাই খামারটি হর্টিকালচার সেন্টার হিসেবে পরিচালিত, যার আয়তন ১২ একর। যাত্রা শুরুর পর থেকে জেলার ৭টি উপজেলার কৃষি উন্নয়নে ব্য্পাক অবদান রাখছে হর্টিকালচার সেন্টারটি।



