এতো অভিযোগ তবুও বহাল তবিয়তে শিক্ষক চিনু দেওয়ান

বান্দরবানের টাইগার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

অনিয়ম,অনুপস্থিত, শিক্ষার্থী নির্যাতন, প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রিসহ একের পর এক বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও অদৃশ্য কারনে বহাল তবিয়তে আছে বান্দরবান সদরের টাইগার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চিনু দেওয়ান।

স্কুলের একজন অভিভাবক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক চিনু দেওয়ান স্কুলে আসার পর থেকে সরকার কর্তৃক যেসব অর্থ স্কুলের উন্নয়নের জন্য আসে সেই অনুযায়ী কাজ করেননা তিনি, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ আসলেও তা না দিয়ে তিনি অর্থ আত্মসাত করেন।

জানা গেছে, জেলা শহরের কাছেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান হলেও এই শিক্ষক বিদ্যালয়ে যথা সময়ে উপস্থিত থাকেননা এবং কোন কোন দিন কয়েকদিন অনুুপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারনে পাঠদান অব্যাহত রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দপ্তরী অভি তংচঙ্গ্যা শিক্ষার্ত্রীদের পাঠদান করান।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগ পত্রে রত্ন্যা মোহন তংচঙ্গ্যা জানান, স্কুলটির পাশের টাইগারপাড়ায় আমাদের বসবাস। ২০১৯ সালে আমার সন্তান ২য় শ্রেণীর ছাত্র বিকাশ তংচঙ্গ্যাকে চুরির মিথ্যা অভিযোগে স্কুল থেকে বের করে দেন।

টাইগার পাড়ার বাসিন্দা রত্ন্যা মোহন তংচঙ্গ্যা পাহাড়বার্তা’কে বলেন, এই সময় তিনি ছাত্র বের করে দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে প্রধান শিক্ষককে জানালে প্রধান শিক্ষক চিনু দেওয়ান তাকে লাঞ্চিত করেন। পরে সন্তানকে সেই স্কুল থেকে এনে ৩ কিলোমিটার দূরের মেঘলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। এই শিক্ষার্থীর মতো একই পাড়ার আরেক শিক্ষার্থী গত বছর বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

শুধু এই অভিভাবক নয়,টাইগার পাড়ার বাসিন্দা উহ্লাফ চাক বলেন,আমার এক ছেলেকে মেঘলার অনলাইন স্কুলে ভর্তি করানো কারনে বড় ছেলেকে স্কুল থেকে বের করে দেন। তিনি আরো বলেন, পাশের স্কুল থাকতে এখন আমাকে ৩ কিলোমিটার দূরের স্কুলে ছেলেকে ভর্তি কেউ শখের বসে করেনা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে স্থানীয়দের করা অভিযোগ পত্র অনুসারে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য এবং পঞ্চম শ্রেণি পাশের প্রশাংসাপত্র দেওয়ার সময় তিনি ৫শ থেকে ১হাজার ও এবং পরীক্ষা ফি বাবদ ৮০ থেকে ১শ টাকা নিয়ে থাকেন।

এই ব্যাপারে টাইগার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চিনু দেওয়ান পাহাড়বার্তা’কে বলেন,আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য নয়, আপনারা তদন্ত করলে বিষয়টি জানতে পারবেন।

প্রসঙ্গত,সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বান্দরবানের টাইগার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চিনু দেওয়ান ২০১৮ সালের ১১ জুলাই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ৪টি বিশাল আকারের সেগুন গাছ, ২টি বড় আকারের গামারি গাছ, ১টি রং গাছসহ আরেকটি বড় জাতের পাহাড়ী গাছ কাটেন। সেই সময় বিষয়টি একাধিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

এই ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো: সিদ্দিকুর রহমান পাহাড় বার্তা’কে বলেন,আমরা এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ পত্র পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
Loading...