আমি অপারেশন করতে জানি বলে করছি, না জানলে কি করতাম স্যার ?

আলীকদম হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয় নিজেই জরুরী বিভাগে কাউকে তোয়াক্কা না করে কাজ করছেন ডাক্তার হিসেবে । গত রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার সময় আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দরজা বন্ধ করে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে ও অনুমতি ব্যতিত এক শিশুর খতনা করছিলেন আলীকদম ওয়ার্ড বয় মোঃ আবুল কালাম ও তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন উক্ত হাসপাতালের বাবুর্চি ইয়াংরিং মুরুং। আর ঘটনাটি ধরা পড়ে পাহাড়বার্তার প্রতিবেদকের কাছে।

বিষয়টি দেখে পাহাড়বার্তার প্রতিবেদক আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শহিদুর রহমানকে অবগত করলে,তিনি জরুরী বিভাগে যান । জরুরী বিভাগে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ঢুকেই একটি শিশুকে খতনা করা অবস্থায় ওয়ার্ড বয় মোঃআবুল কালামকে আপনি খতনা করছেন কেন,ডাক্তার কোথায় প্রশ্ন করলে উত্তরে মোঃ আবুল কালাম জানায়, “ডাক্তারকে আমরা সহযোগিতা করছি ,ডাক্তার এখন বাইরে গেছে”। এরই মধ্যে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত ডাক্তার উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানকে মোবাইলে কল দিয়ে ডাকা হলে তিনি জরুরী বিভাগে উপস্থিত হন।

আলীকদম উপজেলা মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রশ্ন করেন, আপনি খতনা করা অবস্থায় জরুরী বিভাগ ছেড়ে কোথায় গেলেন? উত্তরে উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার জানান,একটি জরুরী রোগী ছিল তাকে দেখছিলাম। তিনি আরো বলেন, তারপর আউটডোরে রোগী বেশী থাকায় ,সেখানে সাহায্য করছিলাম।
উপজেলা মেডিকেল অফিসার উপ সহকারী মেডিকেল অফিসারকে প্রশ্ন করেন, উনারা কি তোমাকে সহযোগিতা করতেছে খতনার কাজে ? খতনা করার বিষয়ে তুমি অনুমতি দিয়েছো তাদের? তুমি খতনার বিষয় জান? উত্তরে, উপ সহকারী মেডিকেল অফিসার তার কোন অনুমতি নেয়নি এবং খতনার বিষয়ে তিনি জানেন না এবং খতনা করা শিশুটি জরুরী বিভাগের বাইরে এক মহিলার সাথে বসা ছিল বলে জানান।

এর পর ওয়ার্ড বয় আবুল কালামকে আবারও উপজেলা মেডিকেল অফিসার প্রশ্ন করেন, ডাক্তারের অনুমতি বা ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে তুমি তো খতনা করতে পারনা। উত্তরে ওয়ার্ড বয় জানান, ডাক্তার থাকলেও তো এগুলো আমরা করি ,আমি জানি বলে করছি,না জানলে কি স্যার করতাম। আমার করাতে যদি সমস্যা হয়,চাকরী ছেড়ে দিই, আমার কাজ তো ডাক্তারকে ডেকে আনা না বলে জানালে আলীকদম উপজেলা মেডিকেল অফিসার চুপচাপ জরুরী বিভাগ ত্যাগ করে নিজ কক্ষে চলে যান।

এর আগেও মোঃ আবুল কালামের বিরুদ্ধে ডাক্তারের রেফারকৃত রোগী ডেলিভারী রুমে রেখে চিকিৎসা করানো,রোগী,রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ ও ঝগড়া করার,নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপেলক্সের এক আয়ার স্বামীকে মাদক দিয়ে ফাসানোর চেষ্টার অডিও রেকর্ড়সহ নানা অভিযোগ আছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগের পরও কিছু কর্মকর্তার আর্শীবাদে দিনদিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুয়েকজন কমচারী জানান, উনার( আবুল কালাম) সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেমন ইচ্ছে তেমন করা যায়, স্যার’রা কিছু বলেন না, কিন্তু তাকে অখুশি করে চাকরী করা আলীকদম উপজেলা স্বাস্খ্য কমপ্লেক্সে কষ্ট কর ও নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয় বলে জানান।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ওযার্ড বয় মোঃ আবুল কালাম বলেন,সবাই বলার সুযোগ পায়,আমি কখনো বলার সুযোগ পায় না। আমার কাজ ফাইলপত্র এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে নিয়ে যাওয়া। যা করছি মানুয়ের ভালোর জন্য করছি, বর্তমানে ভাল কাজটাই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার ডেকে আনা থেকে সব কাজ আমি করি,ডাক্তারকে জরুরী বিভাগে পাওয়াই যায় না,সেগুলো দোষের না,আর উপকার করলেই যত দোষ বলে তিনি জানান।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শহিদুর রহমান বলেন মোঃ আবুল কালামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া মোঃ আবুল কালাম কিছু করতে পারে না বলে জানান।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন ড. অংশৈ প্রু জানান, উক্ত বিষয়টি জেনে দেখতেছি। কিছু দিন আগেও একটি তদন্ত টিম আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিল, তার (ওয়ার্ড বয় আবুল কালাম) বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।